গাজীপুর আ. লীগের সভায় ‘জাহাঙ্গীর সমর্থক’ দুই নেতাকে মারধর
গাজীপুরে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির সভায় যোগ দিয়ে দুই সদস্য মারধরের শিকার হয়েছেন, যারা বরখাস্ত মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের বঙ্গতাজ অডিটিরিয়ামে এই ঘটনা ঘটে।
এই দুই নেতা হলেন টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. রজব আলী এবং গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান এসএম মোকছেদুল আলম।
মোকছেদুল আলম জানান, মঙ্গলবার বিকালে বঙ্গতাজ অডিটিরিয়ামের দোতলায় সভা আহ্বান করা হয়। আমন্ত্রণ পেয়ে তার মতো রজব আলীও ওই সভায় যোগ দেন।
সভার শেষে দোতলা থেকে নামার সময় সময় কয়েকজন যুবক ও কিশোর (যাদের বয়স ১৮ থেকে ২২বছর) জাহাঙ্গীর আলমের দালাল বলে মোকছেদুল আলমের উপর হামলা চালায় এবং তার পাঞ্জাবী ছিঁড়ে ফেলে, বলেন মোকছেদুল।
একইভাবে তারা রজব আলীর উপরও হামলা চালায় বলে মোকছেদুল জানান।
এ ব্যাপারে রজব আলী বলেন, মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমতউল্লাহ খানের সভাপতিত্বে মহানগর আওয়ামী লীগের সভা শুরু হয়।
সভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সামসুন্নাহার ভ্ইুয়া, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আতাউল্লাহ মন্ডলসহ কমিটির অন্যন্য নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
রজব আলী বলেন, সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি অডিটরিয়ামের ‘ওয়াশ রুমে’ যান। সেখানে ১০-১২ জন যুবক ও কিশোর তাকে মহানগর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের ‘অনুসারী অভিযোগ তুলে’ তার উপর হামলা চালায়। তাকে এলাপাথাড়ি কিল-ঘুষি মারে।
তিনি তাদের কাউকেই চিনতে পারেননি; বিষয়টি তিনি উপস্থিত প্রতিমন্ত্রী ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন; পরে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, “অমি ২২ বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছি, ওপেন হার্ট সার্জারি করেছি। আমার ৪০ বছরের অওয়ামী লীগ রাজনীতির জীবনে এমন কষ্ট কখনও পাইনি। বিএনপির শাসন আমলে জেল খেটেছি, ৭ মাস ডিটেনশনে ছিলাম। তাতেও এত অপমান বোধ করিনি। কিন্তু নিজ দলের এ আপমান আমাকে খুবই পীড়া দিচ্ছে।”
এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান বলেন, “বিষিয়টি আমরা সভা চলাকালীন শুনেছি। এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা। তিনি এর জন্য কারা দায়ী তাদের নাম লতে পারেননি। তবু বিষয়টি অনুসন্ধান করে দেখা হবে।”
সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু ও বীর মুক্তিযোদাদের নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্যের অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর সিটির মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম দলীয় পদ ও সাধারণ সদস্য থেকে বহিষ্কৃত হন এবং মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হন।
