১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

রংপুরে মাজারের খাদেম হত্যার রায় ১৮ মার্চ

রংপুরে মাজারের খাদেম হত্যা মামলার রায় জানা যাবে আগামী ১৮ মার্চ।

রংপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Mar 2018, 12:47 PM

Updated : 08 Apr 2022, 06:00 PM

রোববার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রংপুরের বিশেষ জজ নরেশচন্দ্র সরকার ওইদিন এ মামলার রায় দেওয়ার তারিখ রেখেছেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রথীশচন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনা।

কাউনিয়া উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের চৈতার মোড়ে মাজার শরীফের খাদেম রহমত আলীকে (৬০) ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে বাড়ি ফেরার সময় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।

এ মামলায় পুলিশ ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর গত ১৬ বছরের অগাস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু করেন বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার।  

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, পীরবাদে বিশ্বাসী ছিলেন খাদেম রহমত আলী। তার বাড়ির কাছে তার বাবা আব্দুস সাত্তারের নামে মাজার আছে। রহমত আলী ওই মাজারের খাদেম ছিলেন। এছাড়া তিনি কেরানীগঞ্জের বাবা জাহাঙ্গীর বা ঈমান আল সুরেশ্বরী নামে এক পীরের মুরিদ ছিলেন।

“বাবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর ২১ নভেম্বর ওই মাজার প্রাঙ্গণে ওরসের আয়োজন করা হয়। পীরবাদের বিশ্বাসী এবং মাজারে ওরসের আয়োজন করায় জঙ্গিরা তা বন্ধ করার জন্য রহমতকে একাধিকবার ভায়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল।

“তা উপেক্ষা করে তিনি মাজার প্রাঙ্গণে ওরসের আয়োজন চালান। ওরশের ১১ দিন আগেই রহমতকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।”

তিনি বলেন, “আমরা সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করেছি। আশা করছি, আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে।”

অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী আবুল হোসেন বলেন, “আমাদের মক্কেলরা নির্দোষ। তাদের পরিকল্পিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীত কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।

“আশা করছি তারা খালাস পাবেন।”

আসামি যারা

আসামিদের মধ্যে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়ার জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা ওরফে মন্ত্রী (৩৩), একই এলাকার জেএমবি সদস্য ইছাহাক আলী (৩৪), লিটন মিয়া ওরফে রাহুল (৩২), আবু সাঈদ (৩০), গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়ার চরের সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল (৩০), বোনারপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব ভূতমারার জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজিব ওরফে গান্ধি (২৬) ও বাবুল আখতার ওরফে বাবুল মাস্টার (৩৫), দিনাজপুরের বিরামপুরের সরোয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান (৩৩), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাদাত ওরফে রতন মিয়া (২৩) ও তৌফিকুল ইসলাম সবুজ (৩৫), বিজয় ওরফে আলী ওরফে দর্জি (৩০) কারাগারে আছেন।

তাদের উপস্থিতিতেই রোববার আদালতে দুই পক্ষের যুক্তি তর্ক শেষ হয়।

অপর দুই আসামি বগুড়ার শাজাহানপুরের রাজিবুল ইসলাম মোল্লা ওরফে বাদল ওরফে বাঁধন (২৫) ও  রংপুরের পীরগাছার চাঁন্দু মিয়া (২০) এখনও পলাতক রয়েছেন। 

কারাগারে থাকা ১১ আসামির মধ্যে মাসুদ রানা ওরফে মামুন ওরফে মন্ত্রী, ইছাহাক আলী, লিটন মিয়া ওরফে রফিক এবং সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুলকে রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলায় গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বিচারের ২৮ মাস 

২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে দুর্বত্তরা কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে মাজারের খাদেম রহমত আলীকে। এ ঘটনায় পরের দিন তার ছেলে অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

প্রথমে মামলাটি তদন্ত করেন কাউনিয়া থানার এসআই মনোরঞ্জন রায়। পরে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ওই থানার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মামুন অর রশীদকে। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ১১ জুলাই জেএমবির ১৫ সদস্যের বিরুদ্ধে রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দেন। পরে মামলাটি বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

মামলা চলার সময় দুই আসামির মৃত্যু হওয়ায় তাদের বাদ দিয়ে গত বছরের ১৬ অগাস্ট রংপুরের বিশেষ জজ নরেশ চন্দ্র সরকার জেএমবির ১৩ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু নির্দেশ দেন।

৫২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়ার মধ্যদিয়ে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এক সাক্ষীর মৃত্যু ও চার সাক্ষী ভারতে পালিয়ে যাওয়ায় আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে।  

বিচার চলাকালে দুই আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত

খাদেম রহমত হত্যা মামলার আসামি জেএমবির সদস্য পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক নজরুল ওরফে বাইক হাসান (২৬) ২০১৬ সালের ২ অগাস্ট ভোরে রাজশাহীতে এবং কুড়িগ্রামের রাজারহাটের সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল (২১) গত বছরের ৫ জানুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

অভিযোগ গঠনের সময় আদালত মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়।