Published : 14 Jun 2017, 12:10 AM
পুরানো খবর:
তানোরে গ্রেপ্তার ৮ ‘জঙ্গি’ রিমান্ডেপুরানো খবর:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ি ঘিরে অভিযানপুরানো খবর:
‘জঙ্গি আস্তানায়’ নিহতদের লাশ দাফন, মামলাতানোরের ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযান বিষয়ে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি খুরশীদ হোসেন মঙ্গলবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
‘নব্য জেএমবির নেতা’ সোহেল মাহাফুজ ওরফে হাতকাটা মাহাফুজ এই পরিকল্পনার মাস্টার মাইন্ড। তিনি এ অঞ্চলের সামরিক কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান খুরশীদ।
রোববার গভীর রাতে রাজশাহীর তানোরের পাঁচন্দর ইউনিয়নের ডাঙাপাড়া গ্রামের একটি বাড়ি ঘেরাও করে এবং পরে সেখান থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। নারীসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে।
গত দুই মাসের মধ্যে রাজশাহীর গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও নাচোলের কয়েকটি ‘জঙ্গি আস্তানায়’ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।
ডিআইজি খুরশীদ জানান, সম্প্রতি রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে যে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে তা মাহাফুজের মজুদ করা। তবে ইতিমধ্যেই এ অঞ্চলে মজুদ করা জেএমবির অধিকাংশ অস্ত্র ও বিস্ফোরক পুলিশ উদ্ধার করেছে।“তাকে (মাহাফুজ) গ্রেপ্তারে আইন-শৃংখলা বাহিনীর কয়েকটি টিম কাজ করছে। যে কোনো সময় মাহাফুজ আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়বেন।”
তবে কোথায়, কীভাবে ও কবে জেএমবির নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি খুরশীদ বলেন, জেএমবির নাশকতার স্থান ও সময় নিশ্চিত হওয়া না গেলেও রমজান মাসে তাদের কর্মকাণ্ড বেড়ে যায়। গত রমজান মাসে এবং ঈদের দিনে তারা বড় ধরনের নাশকতা চালিয়েছে।
ডিআইজি বলেন, তানোরের ডাঙাপাড়া গ্রামের ‘জঙ্গি আস্তানা’ থেকে গ্রেপ্তার ইব্রাহীম, ইসরাফিল ও রবিউল জেএমবির সক্রিয় সদস্য। আর তাদের স্ত্রী মর্জিনা খাতুন, হারেছা খাতুন ও হাওয়া খাতুন জেএমবির প্রাথমিক পর্যায়ে ছিলেন।
ওই বাড়ির মালিক স্কুল শিক্ষক রমজান আলী ও তার স্ত্রী আয়শা বেগমকে জিজ্ঞাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান ডিআইজি।
তিনি বলেন, ওই আস্তানা থেকে সুইসাইডাল ভেস্টসহ যে অস্ত্র ও বিস্ফোরণ পাওয়া গেছে তা সোহেল মাহাফুজ ওরফে হাতকাটা মাহাফুজের সরবরাহ করা। এক সপ্তাহ আগে ইসরাফিল ও রবিউল একটি ব্যাগে করে সেগুলো তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়।
তানোর থানার ওসি রেজাউল ইসলাম বলেন, রমজান আলীর দুই ছেলে ইব্রাহীম ও ইসরাফিল এবং জামাতা রবিউল ইসলাম প্রায় এক বছর ধরে জেএমবির কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন। বিশেষ করে এক বছর আগে ইসরাফিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়াগোলা গ্রামে বিয়ের পর থেকে তারা জেএমবির কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।ইসরাফিলের স্ত্রীর বড় ভাই জেএমবির সক্রিয় সদস্য বলে জানান ওসি।
রোববার গভীর রাতে পুলিশ তানোরের ডাঙাপাড়া গ্রামে রমজানের বাড়ি ঘিরে অভিযান চালায়। সেখান থেকে চার শিশুসহ ১২ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে দুইটি সুইসাইডাল ভেস্ট, পাঁচ রাউন্ড গুলিসহ পিস্তল ও একটি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার করা হয়। সোমবার রাতে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল গিয়ে বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটায়।
এ অভিযানের ঘটনায় মঙ্গলবার পুলিশ আটজনকে আসামি করে তানোর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে (রিমান্ডে) নেয় পুলিশ। আদালত ছয়জনের ১০ দিন ও দুইজনের পাঁচদিন করে রিমান্ড মুঞ্জুর করে।
এর আগে গত ২৪ মে ভোর ৪টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাজারপাড়া থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। তারা নব্য জেএমবির তামিম-সারোয়ার গ্রুপের সদস্য। তাদের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল বলে র্যাবের ভাষ্য।
তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তুল, একটি ম্যগাজিন, চার রাউন্ড গুলি ও তিন কেজি গান পাউডার উদ্ধার করা হয় বলে র্যাব জানায়।
একইদিন (২৪ মে) সকালে নাচোলের চাঁদপাড়া গ্রামের আবদুল মজিদের (৪৩) বাড়িতে অভিযান শেষে মজিদকে আটক করা হয়।
এরপর উপজেলার ফুরশেদপুর গ্রামের আবজাল হোসেনের বাড়ি এবং সবশেষে গোমস্তাপুর উপজেলার চকপুস্তম গ্রামের এজাবুল হকের বাড়িতে অভিযান চালায় র্যাব। সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি।
এর একমাস আগে ২৬ এপ্রিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহিনী গ্রামে অভিযান চালায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর আমবাগান ঘেরা জেন্টু বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তির আধাপাকা ওই বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা হিসেবে সোয়াট অভিযান চালায়।
অভিযান শেষে ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় সেখানে চারজনের লাশ মেলে, যারা নিজেদের ঘটানো বিস্ফোরণে মারা যান বলে পুলিশ জানায়।