Published : 08 Nov 2016, 09:46 PM
ঘটনার নয় দিন পর মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে শেষে এক সমাবেশে একথা বলেন তিনি।
জেলা পুলিশ আয়োজিত সর্ব দলীয় নাসিরনগর আশুতোষ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতাকে মাথাচাড়া দিতে দেব না। হামলাকারী যারাই হোক তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি পেতে হবে।
“বাংলাদেশ হলো অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটি হৃদয়ে ধারণ করেন। এদেশের হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই মিলেই আমরা এগিয়ে চলব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা কোনো ঘটনাকেই ছোট মনে করি না, কোনো ধর্মকেই অগ্রাহ্য করি না। কেন রামুর মতো ঘটনা আমাদের বারবার দেখতে হচ্ছে সেই কারণগুলো আমরা খুঁজে বের করছি।
“এ সবের মূল কারণ হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে যেভাবে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন সেই উন্নয়নের ধারাকে বিপর্যস্ত করার জন্যই এসব হামলার ঘটনা।
“আমাদের দেশে সংখ্যালঘু বলতে কেউ নেই। যারা জঙ্গি তারাই সংখ্যালঘু। যারা ইসলামের নামে মানুষ হত্যা করে ইসলাম ধর্মকে কলঙ্কিত করে এবং দেশেকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে আমাদের উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করার জন্য তারাই সংখ্যালঘু। আর আমরা সবাই বাংলাদেশি সবাই বাঙালি।”
এরআগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নাসিরনগরের ক্ষতিগ্রস্ত গৌর মন্দিরসহ কয়েকটি মন্দির পরিদর্শন করেন।
ফেইসবুকে ‘ইসলাম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে গত ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে ১৫টি মন্দির এবং হিন্দুদের শতাধিক ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। ঘটনার পর নাগরিক সমাজের অব্যাহত প্রতিবাদের মধ্যেই বিচ্ছিন্নভাবে আরও হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার সময় পুলিশ ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয় ছিল বলে ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করলেও ঘটনার তিন দিন পর ঢাকায় এক বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা নাকচ করে দেন।
এর মধ্যে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে নাসিরনগর থানার ওসি আব্দুল কাদের এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মোয়াজ্জাম আহমদকে সরানো হয়েছে।
আসাদুজ্জামান কামাল
দুই মামলায় এ পর্যন্ত মোট ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান নাসিরনগর থানার ওসি আবু জাফর।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এসবি) জাবেদ পাটোয়ারী, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহা. শফিকুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান প্রমুখ।
আইজিপি বলেন, “ভিডিও ফুটেজ দেখে ইতোমধ্যে অনেক হামলাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অভিযান চলছে, হামলাকারী কেউ রক্ষা পাবে না।”
হামলাকারীদের প্রত্যককে খুঁজে খুঁজে বের করা হবে ঘোষণা দিয়ে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, “এদেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই, সংখ্যালঘু হচ্ছে ক্রিমিনালরা।”
মন্দির ও হিন্দুদের ঘরবাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনা করে ডিআইজ সফিকুল বলেন, এঘটনার সঙ্গে জড়িতরা যতো শক্তিশালীই হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সমাবেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জামিয়া দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সাজিদুর রহমান, ইসকনের সাধারণ সম্পাদক চারুচন্দ্র ব্রহ্মচারী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ব্যাপ্টিস্ট চার্চের সাধারণ সম্পাদক মৌসুমী সিনহা, কাওরানবাজার আম্বরশাহ মসজিদের খতিব মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।