মাওয়া মহাসড়কে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৫
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে দুটি বাসের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন; আহত হন অন্তত ৩০ জন।
সোমবার দুপুরে মহাসড়কের নিমতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে সিরাজদিখান থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান জানান।
বেলা দেড়টার দিকে মাওয়াগামী গাংচিল পরিবহন এবং ঢাকাগামী প্রচেষ্টা পরিবহনের বাস দুটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
দুর্ঘটনার পরপর ওসি চারজন নিহত হওয়ার কথা জানালেও সন্ধ্যায় তিনি পাঁচজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. বাচ্চু মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৪ জনকে হাসপাতাল আনলে চিকিৎসক তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের মধ্যে বিক্রমপুর আদর্শ কলেজের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম (১৯) রয়েছেন বলে তিনি জানান। তার বাবার নাম সাদেকুর রহমান, বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানার ষোলঘর গ্রামে।
নিহত বাকি দুজনের পরিচয় জানা যায়নি। তাদের মধ্যে একজন নারী, যার বয়স আনুমানিক ৩০ এবং অন্যজন ৫৫ বছর বয়সী পুরুষ।
আহতদের মধ্যে মো. সাইদ (৪০), নুর মোহাম্মদ (২৫), আবু সাইদ (২৫), বিল্লাল (২৫), নিলয় (৮), আবুল হোসেন (১৮), দেলোয়ার (৪৫), পলি (৩০) ও নারগিসের (২৭) নাম জানা গেছে।
ঢাকার কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এই দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজন মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে চলে যান। তবে আহতদের মধ্যে একজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মিটফোর্ড হাসপাতালে একজন পুরুষের মৃতদেহ রয়েছে। তার পরিচয় জানা যায়নি।
সিরাজদিখান থানার ওসি বলেন, মিটফোর্ড ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারীসহ চারজনের লাশ রয়েছে। বাকি একজন পুরুষের লাশ ঘটনাস্থল থেকে স্বজনরা নিয়ে যায়।
মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ ও এলাকাবাসী হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে ২০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ ছিল। বাস দুটি রেকার দিয়ে মহাসড়কের পাশে সরিয়ে নেওয়ার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এসপি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বেপরোয়া গতির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনা কবলিত বাস দুটির চালক পলাতক রয়েছে বলে জানান তিনি।
