Published : 16 Jun 2016, 05:07 PM
তবে ওই কঙ্কাল চাপড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ–সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজেরই কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় পরিবার।
কুমারখালী থানার ওসি জিয়াউর রহমান জানান, বুধবার রাতে উপজেলার মীর মোশাররফ হোসেন সেতুর পাশে নদীর চরের বালি খুঁড়ে কঙ্কালের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়।
“সম্প্রতি গ্রেপ্তার আলমগীর নামের এক আসামি জিজ্ঞাসাবাদে গড়াই নদীর মধ্যে লাশ পুঁতে রাখার জায়গার কথা জানায়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বুধবার রাতে সাড়ে ৯টার দিকে অভিযান চালিয়ে কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিরাজের স্ত্রী সখী খাতুন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কঙ্কাল উদ্ধারের কথা শুনেছি, তবে সেটা মিরাজেরই কি না- সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারিনি।”কুমারখালীর চাপড়া ইউনিয়নের লাহিনীপাড়ার আব্দুল গণি শেখের ছেলে মিরাজ গড়াই ইট ভাটার মালিক ছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ারও পরিকল্পনা ছিল তার।
ওসি জানান, ২০১৫ সালের ৪ জুন রাতে মিরাজ তার ব্যবসার অংশীদার কোহিনুরের সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন মিরাজের স্ত্রী কুমারখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে সেটি মামলায় রূপান্তরিত হয়।
এজাহারে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করা হলেও পুলিশ তদন্ত করে নয় জনকে ওই ঘটনায় জড়িত হিসেবে শনাক্ত করে। তাদের মধ্যে সাতজনকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদের মধ্যে ছয়জন কারাগারে এবং একজন জামিনে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক বলে জানান ওসি।
তিনি বলেন, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি এ মামলায় অন্যতম আসামি কুমারখালীর জোতপাড়া গ্রামের সলেমান আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মিরাজকে হত্যা করে লাশ গড়াই নদীর চরে পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করেন।সে সময় পুলিশ মিরাজের লাশ উদ্ধারে অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয়। সম্প্রতি মামলার আরেক আসামি আলমগীর গ্রেপ্তার হওয়ার পর রিমান্ডে লাশ গুম করার স্থান সম্পর্কে পুলিশকে তথ্য দেন বলে জানান ওসি।
তিনি বলেন, “এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাজাহান ও আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ আলতাফ এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন বলে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে। তারা দুজনেই পলাতক।”