Published : 27 Feb 2016, 09:03 PM
জেলার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া গ্রামের শাহাব উদ্দিন ২০ শতক জমিতে এবারই প্রথম জিরা চাষ করেন। তার ক্ষেতের ফুলে জিরা দানা বের হতে শুরু করেছে। তার আশা, সাড়ে তিন মণ জিরা হলে অন্তত ১০ লাখ টাকার বীজ বেচতে পারবেন তিনি।
মহম্মদপুরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, প্রথম বারের মতো মহম্মদপুর উপজেলায় বালিদিয়াসহ বিভিন্ন মাঠে দেড় একর জমিতে জিরার চাষ হয়েছে। জিরা যেহেতু একটি অর্থকরী মসলা ফসল, সেদিক বিবেচনায় সফল ফলন হলে পরবর্তীতে গোটা জেলায় এ চাষ সম্প্রসারণ করা হবে।
জিরার বিশ্বব্যাপী বাজার থাকলেও ইরান, ভারতসহ হাতেগোনা ৫-৬টি দেশে বেশি চাষ হয়। ভারতে বেশি চাষ হলেও উৎপাদিত জিরার ৯০ ভাগ অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি হয়। অন্যদিকে সিরিয়া, তুরস্ক ও ইরানে উৎপাদিত জিরার সিংহভাগ রপ্তানি হয়ে থাকে।জাতিসংঘের পণ্য বাণিজ্যর পরিসংখ্যান দিয়ে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে বিশ্বে উৎপাদিত তিন লাখ টন জিরার ৭০ ভাগই ভারতে চাষ হয়েছে। এছাড়া সিরিয়ায় ২০ হাজার, তুরস্ক ১০ হাজার, ইরানে ১০ হাজার, আফগানিস্তানে ১৫ থেকে ২০ হাজার এবং পাকিস্তানে পাঁচ হাজার টন জিরা চাষ হয়।
জিরা চাষি শাহাব উদ্দিন বলেন, “প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জিরা ক্ষেত দেখতে আসছেন। বাড়ি থেকে শুরু করে মাঠে, হাটে-বাজারে যেখানে যাচ্ছি সেখানেই মানুষ পাগল করে ফেলছে জিরার বীজের জন্য। অনেকেই অগ্রিম টাকা সাধছেন।”
শাহাবউদ্দিন তার বড় ভাই আক্তার হোসেনের সহযোগিতায় এ বছর প্রথম জিরা চাষ করেন। তাদের আশা, ২০ শতক জমিতে তিন মণ জিরা ফলবে। প্রতি ১০০ গ্রাম বীজ এক হাজার টাকা দরে বিক্রির আশাও করছেন। এতে জিরাবীজ বেচে ১০ লাখ টাকা পাবেন বলেও আশাবাদী তিনি।
তার এক ভগ্নিপতি ইরানে জিরা ক্ষেতে কাজ করতেন। তিনিই ইরান থেকে প্রথম এই জিরাবীজ আনেন। গত বছর নড়াইলে তার সেই ভগ্নিপতি জিরা চাষ করে সফল হন। তার কাছ থেকেই তিন হাজার টাকায় ৩০০ গ্রাম বীজ আনেন শাহাবউদ্দিন।ক্ষেতে পরিমাণমতো পটাশ, টিএসপি ও জিপসাম ছিটিয়ে কার্তিক মাসের শেষ সপ্তাহে জমিতে জিরার বীজ বপন করেন তিনি।
“গাছ বড় হলে পাঁচ কেজি ইউরিয়া সার ও ভিটমিন ওষুধ এবং কয়েক বার সেচ দিয়েছি। তাতে সব মিলিয়ে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
“মাঘ মাসের শেষে গাছে ফুল আসে। এখন ফুল থেকে জিরার দানা বের হতে শুরু করেছে। চৈত্র মাসের শুরুতে পরিপক্ব দানার জিরা ঘরে উঠাব।”
তিনি ধারণা করছেন এই জিরার মানও ইরানি জিরার মতোই উন্নত হবে।
তবে শাহাবউদ্দিনের জিরা চাষের খবর জানেন না মাগুরা মশলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, “আমাদের দেশে জিরা চাষে প্রধান বাধা কুয়াশা। শীতকালে কুয়াশা পড়লে জিরা চাষ সম্ভব নয়। জিরা চাষে শুষ্ক আবহাওয়া, ঝিরঝিরে বাতাস ও সূর্যের আলো প্রয়োজন।”