২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

কুনিও হত্যায় জেএমবি: ‘পিস্তল ইসহাকের, গুলি করেছে মাসুদ’

রংপুরে জাপানের নাগরিক কুনিও হোশিকে যে পিস্তল দিয়ে জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা গুলি করে হত্যা করেন, তা জেএমবি সদস্য ইসহাক আলী সরবরাহ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রংপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Dec 2015, 12:36 PM

Updated : 25 Apr 2022, 02:17 PM

মঙ্গলবার সকালে পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হুমায়ুন কবীর কুনিও হত্যা মামলায় বিচারকের কাছে দেওয়া ইসহাকের জবানবন্দির বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

“কুনিও হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ, যাদের সবাই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য। তাদেরই একজন জেএমবির এহসার সদস্য ইসহাক আলী।

“কুনিওকে হত্যায় যে পিস্তলটি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা সরবরাহ করেন ইসহাক আলী। সেই পিস্তল দিয়ে কুনিওকে গুলি করেন জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানা; সঙ্গে ছিলেন ইউনিট কমান্ডার খয়বর হোসেন।”

সোমবার রাতে রংপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শফিউল আলমের কাছে এই জেএমবি সদস্য ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন বলে ডিআইজি হুমায়ুন জানান।

৮ ডিসেম্বর রাতে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পশুয়া টাঙ্গাইলপাড়ার বাড়ি থেকে ইসাহাককে আটকের পর কুনিও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আট দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

হুমায়ুন বলেন, “গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে কুনিও হত্যার সঙ্গে মাসুদ রানা, ইসাহাক ও খয়বর হোসেনই জড়িত বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।”

ডিআইজি সাংবাদিকদের বলেন, একই এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন ইসাহাক। ২০০৫-০৬ সালে ইসহাক ইরাক থেকে অস্ত্রচালনার প্রশিক্ষণ নেন।

“সে সময় ইসহাকের বড় ভাই জেএমবির পীরগাছা-কাউনিয়া অঞ্চলের কমান্ডার ইনসাফ আলীর কাছে জেএমবির দীক্ষা নেন মাসুদ রানা।”

৩ ডিসেম্বর মাসুদকে তার বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। তার বাড়ির পুকুর থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা গ্রেনেড তৈরির ৫০টি লোহার কৌটা এবং তিনটি ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়।

পরে কুনিও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মাসুদকে আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। ৭ ডিসেম্বর মাসুদ কুনিও হত্যায় দোষ স্বীকার করে বিচারকের কাছে জবানবন্দি দেন।

তিনি নিজেই কুনিও হোশিকে গুলি করার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন বলেন, “ইরাক থেকে দেশে ফেরার পর তার ভাই ইনসাফ আলী জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডারের দায়িত্ব মাসুদ রানার উপর ছেড়ে দিয়ে লিবিয়ায় চলে যান।

“সেখানে ইনসাফ মারা যান বলে তার পরিবার পুলিশকে জানিয়েছে। এরপর মাসুদের নেতৃত্বে জেএমবিতে সক্রিয় হন ইসাহাক।”

কুনিও হত্যার ঘটনায় সর্বশেষ একই এলাকা থেকে ১১ ডিসেম্বর রাতে গ্রেপ্তার করা হয় জেএমবির পীরগাছা উপজেলা ইউনিট কমান্ডার খয়বর হোসেনকে।

গত ৩ অক্টোবর সকালে রংপুর নগরীর মুন্সিপাড়ার ভাড়া বাড়ি থেকে রিকশায় করে কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের আলুটারি গ্রামে নিজের ঘাসের খামারে যাওয়ার পথে ৬৬ বছরর কুনিওকে গুলি করে হত্যা করে তিন মোটরসাইকেল আরোহী।

এ ঘটনায় কাউনিয়া থানার ওসি বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।