টাঙ্গাইলে বিসিজি টিকার পরিবর্তে শিশুকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন, আতঙ্ক
ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান আজাদ বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিসিজি টিকার পরিবর্তে এক শিশুকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে।
বুধবার দুপুরে অবসরে যাওয়া এক স্বাস্থ্য পরিদর্শক এক মাস ৫ দিন বয়সি শিশুটিকে ভুলবশত জলাতঙ্কের টিকা দিয়ে দেন বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান আজাদ জানান।
এ ঘটনার পর হাসপাতালে টিকা নিতে আসা শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
শিশুটির পরিবার জানায়, উপজেলার ছাব্বিশা গ্রামের মৌ খাতুন দুপুরে তার কন্যাশিশু ফাহিতাকে নিয়মিত টিকা দেওয়ার অংশ হিসেবে বিসিজি টিকা দিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসেন।
এ সময় সেখানে দায়িত্বরত সাবেক স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম বিসিজি টিকার পরিবর্তে শিশুকে দুই ডোজ জলাতঙ্কের র্যাবিক্স ভ্যাকসিন দেন।
কিছুক্ষণ পর শিশুর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। তখন স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির শাস্তি দাবি করেন।
এতে মুহূর্তেই ঘটনাটি গোটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে। এতে হাসপাতালে আসা অন্যান্য শিশুর স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শিশুর স্বজনরা জানতে পারেন, স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম সম্প্রতি অবসরে চলে গেছেন। সেখানে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরুর।
কিন্তু নুরুল ইসলাম নুরু হাসপাতালে না থাকায় অবসরে থাকা কাইয়ুমকে দিয়ে টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
শিশুটির পরিবার জানায়, ভুল টিকা দেওয়ার প্রতিবাদ করলে মোহাম্মদ কাইয়ুম ও নুরুল ইসলাম নুরু স্বজনদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে টিকাদানকারী সাবেক স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম বলেন, “ভুলবশত বিসিজি টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান আজাদ বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি অবসরে চলে গেছেন। তারপরও ভ্যাকসিন কার্যক্রম চালানোর জন্য তাকে নিয়ে আসা হয়েছিল।”
ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু। তিনি বলেন, বিষয়টি শুনে তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে খোঁজ-খবর নিয়েছেন। শিশু বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
“শিশু বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এতে হয়ত শিশুটির সমস্যা হবে না। তারপরও শিশুটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”
