১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

টাঙ্গাইলে সাপের কামড়ে স্কুল ছাত্রীসহ ২ জনের মৃত্যু

“মার চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে আমি সাপ দেখতে পারি নাই। কিন্তু হাতে চিহ্ন দেখে দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই।”

টাঙ্গাইলে সাপের কামড়ে স্কুল ছাত্রীসহ ২ জনের মৃত্যু
সাপের কামড়ে প্রাণ হারানো স্কুল ছাত্রী মোছা. আঁখি।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 May 2025, 06:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:41 PM

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও সখীপুর উপজেলায় সাপের কামড়ে এক স্কুল ছাত্রী ও এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। 

শুক্রবার রাত ১টায় ঘাটাইলের দেওপাড়া ইউনিয়নের যুগিয়া টেঙ্গর এলাকা এবং শনিবার সকালে সখীপুরে বহুরিয়া ইউনিয়নের কালমেঘা দক্ষিণপাড়া এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, স্কুল ছাত্রী মোছা. আঁখি (১৪) ও কাজলী বেগম (৬০)। 

আঁখি ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের কালিকাপুর উত্তর পাড়া গ্রামের আয়েজ উদ্দিনের মেয়ে এবং কাজলী বেগম সখীপুর উপজেলার কালমেঘা দক্ষিণপাড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

দেওপাড়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মিয়া বলেন, আঁখি মেধাবী ছাত্রী ছিল। রাতে সে পড়তে বসেছিল, এর মধ্যে টেবিলের নিচে থাকা একটি সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। 

“তীব্র ব্যথায় আঁখি চিৎকার করলে রাতেই তাকে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে অ্যান্টিভেমন না থাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠান চিকিৎসক। কিন্তু পথেই মেয়েটির মৃত্যু হয়।”

সখীপুরে সাপের কামড়ে মারা যাওয়া কাজলী বেগমের স্বজনদের আহাজারি।

সখীপুরে সাপের কামড়ে মারা যাওয়া কাজলী বেগমের স্বজনদের আহাজারি।

চিকিৎসকের বরাতে ইউপি সদস্য ইব্রাহিম মিয়া বলেন, “আঁখির পায়ে বিষধর সাপের কামড়ের চিহ্ন ছিল।” 

এদিকে কাজলী বেগমের ছেলে হোসেন আলী বলেন, তার মা সকালে পানি আনতে ঘরের পাশে নলকূপে যান। সেখানে একটি সাপ তার বাঁ হাতে ছোবল দেয়। এতে তার দুই আঙুলে সাপের দাঁতের চিহ্ন বসে যায়। এ সময় তিনি চিৎকার করে বিষয়টি ছেলেকে জানান। 

ছেলে হোসেন আলী বলেন, “মার চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে আমি সাপ দেখতে পারি নাই। কিন্তু হাতে চিহ্ন দেখে দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। তারপরও মাকে বাঁচাতে পারলাম না।”

তিনি জানান, সাপে কামড়ের দেড় ঘণ্টার মধ্যে মাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার মাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ওই নারী মারা গেছেন। তার বা হাতের দুটি আঙুলে ক্ষতচিহ্ন দেখে বিষধর সাপের কামড় বলেই মনে হয়েছে।”

বিষয়টি থানায় জানিয়ে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান এই চিকিৎসক।