১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সিরাজগঞ্জে মিল্কভিটায় দুধ সরবরাহ বন্ধের কর্মসূচি স্থগিত

দুধের দাম প্রতি লিটারে ১০ টাকা বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবি দিয়েছিল সমবায়ীরা।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Nov 2025, 05:15 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:35 PM

উৎপাদিত দুধের দাম প্রতি লিটারে ১০ টাকা বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবিতে মিল্কভিটায় দুধ সরবরাহ বন্ধের কর্মসূচি স্থগিত করেছে সমবায়ীরা। 

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, রোববার সকালে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি মিল্কভিটায় সমবায়ীরা দুধ সরবরাহ করেননি। কিন্তু তারপরই দুপুরে ঘোষিত কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন তারা। 

এ বিষয়ে রেশমবাড়ি প্রাথমিক দুধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি এনামুল হক বলেন, গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় দুধ উৎপাদনে প্রতিনিয়ত খরচ বাড়ছে। সে কারণে মিল্কভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর বারবার আবেদন দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড মিল্কভিটা সমবায়ীদের নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

ওই সমাবেশ থেকে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে প্রতি লিটার দুধে ১০ টাকা দাম বাড়ানোর দাবি করা হয়েছিল। এ ছাড়া মিল্কভিটার দুর্নীতি বন্ধ, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অপসারণ ও নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনসহ ছয় দফা দাবি করা হয়। সেই দাবি না মানায় রোববার সকালে মিল্কভিটায় দুধ সরবরাহ করা হয়নি।

এ বিষয়ে মিল্কভিটার সাবেক চেয়ারম্যান ও সমবায়ী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অনিদিষ্টকালের জন্য রোববার সকাল থেকে মিল্কভিটায় দুধ সরবরাহ বন্ধের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু মানবিক কারণে দুপুরে তা স্থগিত করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘোষিত দাবি না মানা হলে পরবর্তীতে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।      

সমবায়ীদের অভিযোগ, মিল্কভিটায় নানা অজুহাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ালেও সমবায়ীদের দুধের দাম বাড়ানো হয়নি। ৪৫-৫০ টাকায় দুধ কিনে মিল্কভিটা প্রতি লিটার ১০০ টাকায় বিক্রি করছে। 

সিরাজগঞ্জ-পাবনা এলাকায় প্রায় ৫০০ খামারে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হলেও মিল্কভিটা মাত্র ২০ হাজার লিটার দুধ নিচ্ছে। 

এদিকে, গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় প্রতিনিয়ত দুধ উৎপাদনের খরচ বাড়ছে। অপরদিকে, গবাদিপশুর জাত উন্নতকরণ ও চিকিৎসা বাবদ মিল্কভিটা প্রান্তিক খামারিদের দুধের দাম থেকে প্রতি লিটারে ৬০ পয়সা করে কেটে রাখলেও সেসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। 

এ ছাড়া মিল্কভিটার শেয়ার বাবদ প্রতি লিটারে ৪০ পয়সা করে রাখলেও সেইসবের কোনো সার্টিফিকেট দিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে মিল্কভিটায় দুধ সরবরাহে খামারিদের আগ্রহ ক্রমশ কমছে।

এসব বিষয়ে মিল্কভিটার উপ-মহাব্যবস্থাপক অমিয় কুমার মণ্ডল বলেন, শাহজাদপুর, বেড়া ও ফরিদপুর উপজেলায় মিল্কভিটার আওতাভুক্ত প্রায় ৪০০ খামারি রয়েছেন। সম্প্রতি দুধ উৎপাদন কম হওয়ায় প্রতিদিন সকালে ৭০-৭৫ জন এবং বিকালে ১৫০-২০০ জন খামারি মিল্কভিটায় দুধ সরবরাহ করে আসছেন। রোববার সমবায়ীরা দুধ সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিলেও সকালে ৬৯ জন সমবায়ী মিল্কভিটায় দুধ সরবরাহ করেছেন। 

দুধ সরবরাহ বন্ধের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সমবায়ীদের দাবি অমূলক তা বলব না। তবে তারা যে আল্টিমেটাম দিলেন, সেটার বিষয়ে কোনো লিখিত বাঘাবাড়ি মিল্কভিটা অফিসে দেওয়া হয়নি। প্রধান কার্যালয়ে দিয়েছে কি-না তা আমার জানা নেই। তাহলে কিসের ভিত্তিতে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলব?”