Published : 18 Aug 2026, 07:20 PM
লক্ষ্মীপুরে মারধর ও মালামাল লুটের ঘটনার পর দুই মাস ধরে দোকান বন্ধ রেখেছেন এক ব্যবসায়ী। এ ছাড়া দাবি করা চাঁদা না দেওয়ায় এখন হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই ব্যবসায়ী ও জমির ইজারাদার।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বেলায়েত হোসেন কিরন লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি এক যুগ ধরে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জের একটি ভাড়া দোকানে লেপ-তোষকের ব্যবসা করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জমির ইজারাদার মারজাহান বেগমও উপস্থিত ছিলেন।
বেলায়েত হোসেন কিরন বলেন, “ভবানীগঞ্জ এলাকার খুরশিদ ও তার পাঁচ ভাই আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি করা টাকা না দেওয়ায় তারা ১৯ জুন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল লুট ও আমাকে মারধর করেন তারা।
“এ ঘটনার পর থেকে তারা ফের মারধরসহ হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। প্রায় দুই মাস ধরে দোকান বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে আয়-উপার্জনও। পরিবার নিয়ে আমি এখন অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছি।”
তিনি বলেন, এর মধ্যে পুলিশ দোকানটি খুলে দেওয়ার জন্য বলেছে। কিন্তু তারা দোকানের সামনে ইট রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রেখেছেন।
জমির ইজারাদার মারজাহান বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “১৯৮৪ সাল থেকে জমিটি (বিপি সম্পত্তি) ইজারা নিয়ে আমরা ভোগ দখল করছি। হঠাৎ খুরশিদরা এসে ভাড়াটিয়ার ওপর হামলা করে দোকানটি দখল করার চেষ্টা করেন। এখন দোকানটি বন্ধ।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভবানীগঞ্জ বাজার এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য নুরনবীর নামে জমিটি (সরকারি বিপি সম্পত্তি) ইজারা রয়েছে। সেখানে একটি দোকান রয়েছে। কিরন দোকানটি ভাড়া নিয়ে লেপ-তোশকের ব্যবসা করছেন। হঠাৎ খুরশিদসহ তার ভাইয়েরা জমিটি দাবি করেন। তবে কাগজপত্র অনুযায়ী এটি নুরনবীর নামেই রয়েছে।
ব্যবসায়ীর অভিযোগ অস্বীকার করে মো. খুরশিদ বলেন, “জমিটি আমাদের খরিদ করা। এ ঘটনায় থানায় কিরন অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু বৈঠক ডাকলে তিনি থানায় যায় না। হুমকি, মারধর ও লুটের অভিযোগ মিথ্যা।”
দোকান বুঝে পেতে ২ জুলাই জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন বেলায়েত হোসেন কিরন। এ ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ সুপার সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। তবে নির্দেশনার প্রায় দেড় মাস পার হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ওসি ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে একাধিকবার বসা হয়েছে। এটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হওয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া দোকান বুঝিয়ে দিতেও বলা হয়েছে। যেহেতু দোকান বুঝিয়ে দেয়নি, এনিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”