Published : 21 Dec 2025, 11:37 PM
সুদানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. সবুজ মিয়াকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় তার বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে।
রোববার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের ছোট ভগবানপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
রোববার বেলা ২টার দিকে ঢাকা থেকে আসা মরদেহবাহী হেলিকপ্টারটি গাইবান্ধার তুলসীঘাট হেলিপ্যাডে অবতরণ করে।
সেখান থেকে সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ছোট ভগবানপুর গ্রামে। পরে বাড়ির সংলগ্ন ফসলের ফাঁকা মাঠে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে নিহতের স্বজন, প্রতিবেশী, স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্য, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
জানাজার পর যথাযথ সামরিক মর্যাদা ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাবা হাবিবুর রহমানের পাশে সবুজকে দাফন করা হয়।
পরে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী, সবুজের একটি ছবি, ব্যবহার্য সামগ্রী তার মা ও স্ত্রীর হাতে তুলে দেন রংপুর সেনানিবাসের ক্যাপ্টেন আলভি।
এদিকে, কফিনবন্দি মরদেহ গ্রামে পৌঁছার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। ছেলের মরদেহের সামনে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন মা ছকিনা বেগম।
পাশে স্বামীহারা স্ত্রী নুপুর আক্তার বুকফাটা কান্নায় ডুকরে ওঠেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে নুপুর আক্তার বলছিলেন, “স্বামীকে হারিয়ে এখন জীবন কীভাবে চলবে জানি না।”
তিনি নিজের একটি চাকরির জন্য সেনাবাহিনী ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
শুধু স্বজনরাই নন, সবুজের মরদেহ আসার খবরে সকাল থেকেই তার বাড়িতে ভিড় করেন প্রতিবেশী ও গ্রামবাসী। কফিনবন্দি মরদেহ দেখে তারাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুরো এলাকা শোকে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, সবুজ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে পরিবারটি এখন নিঃস্ব। ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে পরিবারটি।
রংপুর সেনানিবাসের ক্যাপ্টেন আলভি নিহতের পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
সবুজ মিয়া শৈশবেই বাবাকে হারান। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। বড় বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বৃদ্ধ মা ছকিনা বেগম ও স্ত্রী নুপুর আক্তারকে নিয়েই চলছিল তার সংসার। ২০২৩ সালে নুপুর আক্তারকে বিয়ে করেন সবুজ। দাম্পত্য জীবনের মাত্র দেড় বছরেই থেমে যায় তাদের স্বপ্নের পথচলা।
সবুজ মিয়া ২০১০ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অসামরিক ধোপা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি লন্ড্রি কর্মচারীর পদে উন্নীত হন।