Published : 24 May 2026, 08:41 PM
রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজন ও চিকিৎসকদের মধ্যে মারামারির পর বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্নরা কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা।
চিকিৎসকরা বলেন, শনিবার রাতে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইন্টার্ন ও কর্মচারীদের সঙ্গে স্বজনদের মারামারি ঘটনা ঘটে। এরপর রোববার সকাল থেকে ইন্টার্নরা কর্মবিরতি শুরু করেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা কাজে যোগ দেননি।
ইন্টার্নদের দাবির মধ্যে রয়েছে- মারামারির ঘটনার বিচার, নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত এবং বহিরাগত প্রবেশ সীমিত করা।
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “শনিবার রাতে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।”
ইন্টার্ন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পটুয়াখালী শহরের হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান (৪০) শনিবার বিকালে গলাচিপায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ তলার সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃতের ছোট ভাই রুবেল হাওলাদার অভিযোগ করেন, “রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নার্সদের একাধিকবার ডাকলেও তারা সাড়া দেননি। পরে রোগীর মৃত্যু হলে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও স্টাফদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।”
এ সময় রোগীর স্বজন সরকারি বি এম কলেজের শিক্ষার্থী নাহিদ সরোয়ারকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে জড়ো হন। অপরদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও অবস্থান নিলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আবদুল মুনয়েম সাদ বলেন, “শনিবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি শুরু করেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি যৌক্তিক।
“তাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন। তবে রাতে তারা যোগদান করেনি। সোমবার সকাল থেকে কাজে যোগদান করবেন।”
এ ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানান সহকারী পরিচালক।
ইন্টার্ন চিকিৎসক তানভীর রেজা বলেন, হাসপাতালের ভেতরে তাদের উপর হামলার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। শনিবারের রাতের ঘটনায় রোগীর স্বজনদের হামলায় তাদের তিনজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এক অধ্যাপককে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। নিরাপত্তাসহ কয়েকটি দাবিতে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি করছেন।
তিনি বলেন, “হাসপাতালের সহকারী পরিচালক দাবি মেনে নিয়েছেন। কিন্তু বিষয়টি দৃশ্যমান নয়। দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।”