১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গোপালগঞ্জ-ঢাকা পথে সরাসরি ট্রেন, সময় না বাঁচলেও টাকা বাঁচবে

ট্রেনটি চালু হলে গোপালগঞ্জ, নড়াইল, বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার বাসিন্দারা সুবিধা পাবেন।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Aug 2026, 08:34 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

ঢাকা-গোপালগঞ্জ পথে সোমবার থেকে চালু হচ্ছে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেন।

এদিন বিকাল ৫টায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ব্যাসপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করবেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম। উপস্থিত থাকবেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য কে এম বাবার।  

স্বল্প খরচে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াতের পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, নড়াইল, বাগেরহাট ও পিরোজপুর জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতি আনতে এ ট্রেন ভূমিকা রাখবে বলে স্থানীয়রা প্রত্যাশা করেছেন।

গোপালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার রত্না বৈদ্য বলেন, সোমবার দুপুর আড়াইটায় ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে প্রথম যাত্রা করবে। ব্যাসপুরে পৌঁছাবে বিকাল ৫টায়। সেখানে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হবে। 

পরে সেখান থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনটি গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে। 

এরপর গোপালগঞ্জ স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ঢাকা কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছাবে। প্রায় ৭০০ আসন বিশিষ্ট এই ট্রেনটিতে যাত্রীরা প্রয়োজনীয় লাগেজ পরিবহনের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা ।   

গোপালগঞ্জ থেকে রাজশাহীর পথে ট্রেন চালু রয়েছে। তবে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি কোনো ট্রেন ছিল না। এই সার্ভিস চালু হলে যাতায়াতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে। প্রচুর যাত্রী হবে। এতে  সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে বলে জানান রত্না বৈদ্য।

গোপালগঞ্জের কয়েকজন নাগরিকের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, এই ট্রেনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সময়ের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে না। কারণ, বাসের যাত্রীরা ঢাকার গুলিস্তান থেকে সর্বোচ্চ আড়াই ঘণ্টায় গোপালগঞ্জে চলে আসেন। ট্রেনে সেটি তিন ঘণ্টার মত লাগবে। তবে, টাকা সাশ্রয় হবে।  

গোপালগঞ্জের রেলযান পরীক্ষক (টিএক্সআর) পল্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, এ কমিউটার ট্রেনে মাত্র ১৪৫ টাকায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন। ট্রেনটি প্রায় ১৮টি বাসের যাত্রী একসঙ্গে বহন করতে পারবে। 

গোপালগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ট্রেন জার্নিতে যানজট আর দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম। সেই সঙ্গে বাসের চেয়ে ট্রেনে ভাড়া অনেক কম। বাসে ঢাকায় যেতে যাত্রীপ্রতি নন-এসিতে ভাড়া ৫০০ টাকা, আরা এসিতে ৬৫০ টাকা। ট্রেনে মাত্র ১৪৫ টাকা ভাড়া। সব মিলিয়ে এই ট্রেন ঘিরে চার জেলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেশি। 

গোপালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে বেড়াতে আসা গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী শ্যামলী নাসরিন খান, তামান্না তানজিন বলেন, এ ট্রেন চালু হলে শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য যাতায়াতের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে।

শহরের কুয়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা সোহাগ মিয়া বলেন, গোপালগঞ্জের ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে মাঝে মধ্যেই বড়-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অনেক প্রাণহানি হয়। তাই ওই পথে বাসে যাতায়াত নিরাপদ নয়।

“এ ছাড়া গোপালগঞ্জ শহর থেকে চার কিলোমিটার দূরে নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলা, ১০ কিলোমিটার দূরে বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট, ১৫ কিলোমিটার দূরে চিতলমারী, ২০ কিলোমটিার দূরে পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা। এসব উপজেলার মানুষ এ ট্রেনে সহজে ঢাকা যেতে পারবেন।”

ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরের ব্যাংকপাড়ার বাসিন্দা অনিন্দ রহমান। তিনি বলেন, এই ট্রেন আঞ্চলিক যোগাযোগে ভৌগোলিক দূরত্ব কমাবে। 

তবে ট্রেনের সময়সূচির কিছুটা পরিবর্তন দাবি করেছেন রমিজ উদ্দিন ও সোহেল হায়দার। তাদের মতে, সকালের দিকে ট্রেন দিলে, মানুষ দিনে দিনে ঢাকায় কাজ বা অফিস শেষ করে আবার গোপালগঞ্জে ফিরে আসতে পারত।