ফরিদপুরে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, যুবকের প্রাণদণ্ড
২০২২ সালের ২২ অগাস্ট পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে জানান পিপি।
ফরিদপুরের বোয়ালামারী উপজেলার ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) স্বপন পাল।
দণ্ড পাওয়া রাসেল সিকদার (২৩) উপজেলার ইছাডাঙ্গা গ্রামের মনোয়ার সিকদারের ছেলে। রায় ঘোষণার পর তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বরাতে পিপি স্বপন পাল বলেন, “ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুটির বাড়ির পাশে সড়কে তাদের একটি মুদি দোকান রয়েছে। সেই দোকানে রাসেলের কিছু টাকা বাকি ছিল। ২০২২ সালের ২২ অগাস্ট সন্ধ্যায় শিশুটিকে রাসেল তার বাড়ি থেকে পাওনা দেড়শ টাকা নিয়ে আসতে বলেন।
“সেই সময় রাসেল বাড়িতে একা ছিলেন। শিশুটি টাকা আনতে গেলে রাসেল পাশের গোসল খানায় নিয়ে গিয়ে শিশুটিকে প্রথমে ধর্ষণ করেন। পরে ধর্ষণের কথা জানাজানি হওয়ার ভয়ে শিশুটির হাত-পা বেঁধে, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেন।”
পিপি বলেন, দীর্ঘ সময় শিশুটিকে না পেয়ে স্বজনরা তার খোঁজাখুঁজি ও মসজিদে মাইকিং করেন। পরে না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’ এ ফোন করে পুলিশকে জানানো হয়। শিশুটিকে খোঁজাখুঁজির খবর পেয়ে রাসেল পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তার গোসল খানা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
শিশুটিকে হত্যার কথা স্বীকার করে রাসেল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
ঘটনার পরদিন শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে রাসেলকে আসামি করে মামলা করেন।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালে ৩০ এপ্রিল বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক মো. আজাদ হোসেন রাসেলকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বলে জানান পিপি স্বপন পাল।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ২০০০ আইনের ১৯(৪) (খ) ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৩০২ ধারায় আরও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানান তিনি।
এ রায়ের ফলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্বপন পাল।
রায় সন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
