১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মেহেরপুর হাসপাতালে জামায়াত এমপি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতাহাতি, ব্যাহত চিকিৎসা সেবা

“সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাকে একটি থাপ্পড় দেন।”

মেহেরপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Aug 2026, 06:38 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে জামায়াতের এক সংসদ সদস্য ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সময়ের জন্য হাসপাতালের চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হয়।

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা জামায়াতের আমির তাহাজ উদ্দিন খান হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলে এক পর্যায়ে উপস্থিত কিছু লোকজন তার দিকে মারমুখি হয়ে ওঠে। এ সময় এমপির দেহরক্ষীর সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশের কয়েকটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে এমপি তাহাজ উদ্দিন খানকে নিরাপদে উদ্ধার করে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পৌঁছে দিয়েছে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উত্তেজনা হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ছড়িয়ে পড়লে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয় এবং রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তাদের ভাষ্য, এ সময় এমপি হাসপাতালের বিভিন্ন আউটসোর্সিং কর্মীর পরিচয়পত্র ও তাদের নিয়োগ-সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চান। এক আউটসোর্সিং কর্মীর সঙ্গে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই কর্মী মেহেরপুর বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের হাসপাতালে ডাকেন। পরে তারা সেখানে এসে এমপির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

এক পর্যায়ে এমপির ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ছাত্রদলের এক কর্মীকে চড় মারলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। খবর পেয়ে মেহেরপুর সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দিন খান হাসপাতাল ত্যাগ করে মেহেরপুর ওজোপাডিকো চত্বরে অবস্থান নেন। এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে জামায়াতবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সংসদ সদস্য তাজউদ্দিন খানকে নিরাপত্তার সঙ্গে সেখান থেকে তার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়।

এ বিষয়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “হাসপাতাল কি বর্তমানে বিএনপির কামরুল গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে আছে।?  সংসদ সদস্য হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলে তিনি কিছু অতিরিক্ত আউটসোর্সিং লোকবল দেখতে পান। তাদের নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম তাদের নিয়োগ দিয়েছেন।” 

তার ভাষ্য, “এ সময় ছাত্রদলের এক কর্মী এমপির সঙ্গে খারাপ আচরণ করে মারমুখি হন। তখন সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী তাকে একটি থাপ্পড় দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে এমপির ওপর হামলা ও অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বলেন, “জামায়াতের এমপি তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে হাসপাতালে ঢুকে হাসপাতাল কতৃপক্ষের নিয়োগপ্রাপ্ত বৈধ আউটসোর্সিংদের আইডি কার্ড দেখতে চান এবং তারা অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত দাবি করে ঘাড়ে ধাক্কা দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেন। এসময় অন্য আউটসোর্সিংয়ে কর্মরতরা ক্ষুব্ধ হয়ে এমপির ওপর চড়াও হয়।”

বিএনপির এ নেতার ভাষ্য, “এমপি তার দলের লোকদের আউটসোর্সিং পদে নিয়োগ দিতে চায়। এই শুনে আমি হাসপাতালে গিয়ে দেখি এমপির লোকদের সাথে সাধারণ বিক্ষুব্ধ মানুষ উত্তেজনা ও ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েছে। আমি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। তখন এমপি হাসপাতাল ছেড়ে পাশে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে আশ্রয় নেয়।”