০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

পঞ্চগড় সীমান্তে ১০ জনকে ‘পুশ ইনের’ চেষ্টা, শূন্য রেখায় ৩৬ ঘণ্টা

“কোনো ধরনের ‘পুশ ইন’ গ্রহণ করা হবে না। যদি তারা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের ফেরত পাঠাতে হবে।”

পঞ্চগড় সীমান্তে ১০ জনকে ‘পুশ ইনের’ চেষ্টা, শূন্য রেখায় ৩৬ ঘণ্টা
পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বিএসএফ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বাধা দেয় বিজিবি।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Jun 2026, 08:15 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:21 PM

পঞ্চগড় সদর উপজেলা সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনকে বিএসএফের ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা ঠেকিয়ে দিয়েছে বিজিবি। এমন পরিস্থিতিতে তারা ৩৬ ঘণ্টা ধরে শূন্য রেখায় অবস্থান করছেন।

ঘটনার পরদিন শনিবার দুপুরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি বলে জানিয়েছেন নীলফামারী-৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম।

শুক্রবার ভোরে বিএসএফ উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে ওই ১০ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে জানায় বিজিবি। এরপর থেকে তারা শূন্য রেখায় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

প্রধানপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ বলেন, শুক্রবার রাতে মুষলধারে বৃষ্টি হয়। বৃষ্টির সময়ও তারা একই স্থানে অবস্থান করেন। তাদের জন্য কোনো ধরনের অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে খোলা মাঠে অবস্থান করছেন তারা।

এর আগে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি। বর্তমানে তারা শূন্য রেখায় ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন।

ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে কোম্পানি পর্যায় ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সমাধান মেলেনি। 

লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, “শুক্রবার কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। সেখানে বিএসএফ তাদের ফেরত নিয়ে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আমরাও জানিয়েছি অবৈধভাবে পুশ ইন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। শনিবার আবার ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে, কিন্তু এ কোনো সমাধান হয়নি।”

তিনি বলেন, “কোনো ধরনের ‘পুশ ইন’ গ্রহণ করা হবে না। যদি তারা বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের ফেরত পাঠাতে হবে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব বিজিবি।”