২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

আচরণবিধি লঙ্ঘন: চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী রুহুল আমিনকে শোকজ

নিজ দলের কর্মীদের বাঁশের লাঠিতে তেল মাখিয়ে সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি।

আচরণবিধি লঙ্ঘন: চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী রুহুল আমিনকে শোকজ
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রুহুল আমিন।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Jan 2026, 06:32 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:34 PM

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রুহুল আমিনকে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান জীবননগর সিভিল জজ আদালতের বিচারক নাসির হুসাইন মঙ্গলবার এ নোটিস জারি করলেও শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হয়।

নোটিসে আগামী ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় প্রার্থীকে বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

গত ১২ জানুয়ারি দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি কর্মশালায় বক্তব্য দেন রুহুল আমিন। সেখানে তিনি বলেন, “সামনে ১২ তারিখ একটি লড়াই হবে। এ লড়াইয়ে যারা মরার জন্য যাবে তারাই জিতবে, যারা রক্ত ঝরানোর জন্য যাবে তারাই জিতবে। আর যারা বাঁচতে যাবে তারা হেরে যাবে।

“খালি হাতে আমরা ভোট সেন্টার পাহারা দেব না। বাঁশের লাঠিতে তেল মাখিয়ে ১১ তারিখ পর্যন্ত সুন্দর করে রেখে দেবেন ভোট সেন্টার পাহারা দেওয়ার জন্য। ইনশাআল্লাহ, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার মতো আমাদের বিজয় দান করুক।”

রুহুল আমিনের বক্তব্য উসকানিমূলক এবং নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা পরিপন্থি দাবি করে একই আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদ হাসান খানের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট এম এ সবুর চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

এ অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে চিঠি পাঠানো হয়। 

চিঠিতে বলা হয়, কার্পাসডাঙ্গায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি কর্মশালায় রুহুল আমিন ভোটের আগে বাঁশের লাঠিতে তেল মাখিয়ে সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছেন; যা নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থি। চিঠির সঙ্গে পেনড্রাইভে বক্তব্যের ভিডিও সংযুক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

পরবর্তীতে ভিডিও পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সিভিল জজ নাসির হুসাইনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে জামায়াত প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। 

নোটিসে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে কেন নির্বাচন কমিশন বরাবর সুপারিশসহ প্রতিবেদন করা হবে না, সে বিষয়ে ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জামায়াত প্রার্থী রুহুল আমিন বলেন, “১২ জানুয়ারির মূল বক্তব্য ছিল, আমরা ভোট চুরি করব না এবং কাউকেও ভোট চুরি করতে দেব না। দিনের ভোট রাতে নেওয়ার রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না। যারা ভোট চুরি করতে আসবে, তাদের আমরা প্রতিহত করব।

“প্রতিহত করার বিষয়টি খালি হাতে সম্ভব নয় বলে, কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এটা কাউকে ভয় দেখানোর জন্য নয়, কিংবা কর্মীদের উসকানি দেওয়ার জন্যও নয়। এটি আচরণবিধি লঙ্ঘনের উদ্দেশ্যেও নয়।”

মূলত সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন নিশ্চিত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এমন বক্তব্য দেওয়া হয় বলে দাবি রুহুল আমিনের।