Published : 30 Dec 2025, 02:37 PM
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার শৈশব ও বেড়ে ওঠার জেলা দিনাজপুর শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।
পৈত্রিক নিবাস, স্বজনদের বসবাস এবং এখানে শিশুকাল কাটানোর কারণে খালেদা জিয়ার প্রতি এ জেলার মানুষের ভালোবাসা সবসময় একটু বেশি, তাই স্বজন হারানোর শোকে তারা কাতর হয়ে পড়েছেন।
দীর্ঘ বছর ধরে কেউ বসবাস না করলেও খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার দলীয় নেতাকর্মী ও স্বজনরা শহরের বালুবাড়ীতে তার পৈত্রিক নিবাস ‘তৈয়বা ভিলায়’ ছুটে আসতে শুরু করেন।
এই বাড়িতে থেকেই সেন্ট জোসেফ স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা ও দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন খালেদা জিয়া।
পরে প্রধানমন্ত্রী হয়েও বিভিন্ন সময়ে তিনি এই বাড়িতে একাধিকবার বাবা-মায়ের কাছে এসেছেন। সর্বশেষ আসেন ২০০৬ সালে।
এই শহরের শেখ ফরিদ গোরস্থানে শায়িত আছেন বেগম খালেদা জিয়ার মাতৈয়বা মজুমদার, বাবা ইস্কান্দার মজুমদার এবং বড় বোন বেগম খুরশিদ জাহান হক।
খালেদা জিয়ার ভাগ্নি তামান্না পারভিন লাকি বলেন, “রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকেও শহীদ জিয়া এবং খালেদা জিয়ার মধ্যে কোনো অহংকার দেখেনি।”
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি বলেন, “শহীদ জিয়ার শূন্যতা যেমন কেউ পূরণ করতে পারেননি, খালেদা জিয়ার শূণ্যতাও কোনোদিন পূরণ হবে না। তবে আশা করি তাদের সুযোগ্য সন্তান তারেক জিয়া বাবা-মায়ের আদর্শকে ধারণ ধরে দেশ ও দলকে এগিয়ে নিবেন।”
তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দল ও রাষ্ট্র ঘোষিত শোক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। পাশাপাশি তৈয়বা ভিলায় কোরআন তেলোয়াতের আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়া খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
লিভার সংক্রান্ত জটিলতা, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, আথ্রাইটিস ও ইনফেকশনজনিত সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
অবস্থার অবনতি হলে তার বড় ছেলে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং পরিবারের সদস্যারা হাসপাতালে ছুটে যান। রাত ২টার পর এজেডএম জাহিদ হোসেন হাসপাতালের সামনে এসে সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া ‘অত্যন্ত সঙ্কটকময়’ সময় অতিক্রম করছেন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিএনপি চেয়ারপারসনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ‘আপসহীন নেত্রী’ হয়ে ওঠা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের বড় সময় কেটেছে রাজপথের আন্দোলনে। তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, জেল খেটেছেন; তবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে কখনো তিনি হারেননি।