জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বহিরাগতকে হেনস্তা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ
“অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে যে ব্যবস্থা নেওয়ার, আমরা সে ব্যবস্থা নেব।”
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দুজন বহিরাগতকে আটকে রেখে হেনন্তা, যৌন হয়রানিমূলক কথা বলা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের এক আত্মীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সোমবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনায় অভিযোগের মুখে থাকা দুই শিক্ষার্থী হলেন- নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪তম আবর্তনের মাহমুদুল হাসান মুন্না এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫৪তম আবর্তনের মো. বায়জীদ হোসেন।
ভুক্তভোগী দুজনের একজন এসএসসি এবং অন্যজন এইচএসসি পড়ুয়া শিক্ষার্থী। তাদের আত্মীয় মো. মাহফুজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী।
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার জয় বলেন, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখেছি পুরো ঘটনাটা এবং দেখার পর আমরা পুরো বিষয়টাই নিশ্চিত হয়েছি।”
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ভুক্তভোগী দুই ভাইবোন ক্যাম্পাসে অবস্থানকালে ওই দুই শিক্ষার্থী তাদের গতিরোধ করেন। এ সময় তাদের মোবাইলফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের পেছনে যেতে বাধ্য করা হয়।
সেখানে নেওয়ার পর তারা ভুক্তভোগীদের মোবাইলফোন তল্লাশি করেন, গালিগালাজ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে মারধরের হুমকি দেন। পরে তারা ‘গাঁজার স্টিক’ তৈরি করে ভুক্তভোগীদের সামনে বসেই সেবন করেন।
এক পর্যায়ে আরও কয়েকজন সেখানে এলে ‘তারাও মরবে’ বলে ভয় দেখিয়ে মানিব্যাগ ফেরত না দিয়েই ভুক্তভোগীদের চলে যেতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী দুজনের আত্মীয় মো. মাহফুজুর রহমান ঘটনার প্রসঙ্গে বলেন, “আজকের ঘটনার যারা ভিক্টিম তারা আমার আত্মীয় এবং তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে জামসিং এলাকায় থাকে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজে দেখছি যে, তারা একজন দাঁড়িয়েছিল আরেকজন ছবি তুলছিল।
“এ সময় দুজন ছেলে এসে তাদের গালিগালাজ করেন এবং যৌন হয়রানিমূলক কথা বলেন। এমনকি ফুটেজে দেখা গেছে, তারা ক্যামেরার নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় বলছিল, উল্টাপাল্টা করলে কিন্তু তোরে মাইরা ফালামু।”
তিনি বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মত এরকম একটা জায়গায় নারীদের জন্য এতখানি অনিরাপদ হয়ে উঠবে এটা কোনভাবে কাম্য নয়।”
সহকারী প্রক্টর আব্দুস সাত্তার জয় বলছেন, “ভিক্টিম লিখিত আবেদন করেছেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এখন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে যে ব্যবস্থা নেওয়ার, আমরা সে ব্যবস্থা নেব।”
মুন্না ও বায়জীদের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ থাকার দাবির বিষয়ে সহকারী প্রক্টর বলেন, “প্রক্টর অফিসে যদি এরকম কোনা ডকুমেন্ট থাকে আমরা খুঁজে বের করব। আজকের অভিযোগের সঙ্গে ওইটাকেও আমরা ট্যাগ করব।”
