১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নেত্রকোণায় নিলামে অবৈধ বালু কিনে বৈধটাও ‘লুটের চেষ্টার’ অভিযোগ

জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলব। এবং দ্রুত সমাধান করব।”

নেত্রকোণা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Sep 2024, 05:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:25 AM

নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলায় নিলামে অবৈধ বালু কেনার পর মহালে থাকা অন্য ব্যবসায়ীদের বৈধ বালু লুটে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। 

এ ব্যাপারে রোববার উপজেলা সদরের রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম মামুনের বিরুদ্ধে পাঁচ বালু ব্যবসায়ী মিলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জেলা প্রশাসকের কাছে। 

অভিযোগে তারা বলেছেন, উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসাউড়া মৌজার পূর্বপাশ থেকে মনতলা গ্রামের কলমাকান্দা ব্রিজ নাগাদ উব্ধাখালি নদীর দক্ষিণ পাড় অংশে বালু রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছেন তারা। 

২৯ অগাস্ট রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে স্থানীয় প্রশাসন বালু মহালে অভিযান চালায়। অভিযানে ২১ হাজার ঘনফুট অবৈধ বালু জব্দ করা হয়। 

পরে ওই রাতেই দুটি পৃথক নিলামের মাধ্যমে ২১ হাজার ঘনফুট বালু ১২ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেন জহিরুল ইসলাম মামুন। 

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, এই বালু কেনার পর মামুন সেখানে থাকা অন্যদের বৈধ বালুও একসঙ্গে করে ফেলেন। এবং লুটে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সেখানে অন্যদের আরও প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার ঘনফুট বালু রয়েছে।

এর প্রতিবাদ করলে তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগে বলেছেন ব্যবসায়ীরা। বালু ব্যবসায়ীদের পক্ষে এই অভিযোগ করেছেন নূরে আলম, মানিক মিয়া, আব্দুল হেলিম, আশিকুর রহমান ও স্বপন মিয়া।

উপজেলার চান্দাইল গ্রামের বালু ব্যবসায়ী মো. নূরে আলম সাংবাদিকদের বলেন, “মামুন নিলামে কিনেছেন ২১ হাজার ঘনফুট বালু। এখন তিনি আমাদের প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকার ১ লাখ ৭০ হাজার ঘনফুট বালু লুট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বাধা দিলে বলছেন, ইউএনও নাকি তাকে সব বালু দিয়েছেন। আমাদেরকে বালুর কাছে না যাওয়ার জন্যে হুমকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা প্রাণভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমরা আমাদের বালু রক্ষা করাসহ জীবনের নিরাপত্তা চাই। এর সুবিচার চাই।”

কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সেলিম তালুকদার বলেন, “নিলামে কেনা বালুর সঙ্গে মামুন অন্য ব্যবসায়ীদের বালু মিশিয়ে ফেলেছেন। মামুন বলতেছেন, সব বালুর মালিক তিনি। কিন্তু বিষয়টা পুরো মিথ্যা। মামুন প্রভাবশালী হওয়ায় বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটের সুযোগ নিয়ে এসব করছেন।” 

অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে নিলামে বালু কেনা জহিরুল ইসলাম মামুন বলেন, “২৯ অগাস্ট বালু বিক্রির দুইটি পৃথক নিলামে আমি অংশ নেই। ১২ লাখ ৪২ হাজার টাকায় দুইটি নিলামই আমি পাই।” 

কতটুকু বালু নিলামে কিনেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এইখানে আসলে একটা আনুমানিক… তারা তো আর স্ট্র্যাকচারালভাবে ফিতা দিয়ে একেবারে মেপে মেপে দেন নাই। তবে এটা একটা উপস্থিত জনতার সঙ্গে স্টেটমেন্ট নিয়ে, প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলে, তারা ২১ হাজার কত যেন ঘনফুট বালু… এই মূহূর্তে মনে নাই। নিলামে দুই-একজন অংশ নেবে এমন না। আসলে শত শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।” 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, “২৯ অগাস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে আনুমানিক ২১ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে। তখন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৃথক দুইটি নিলামের মাধ্যমে ভ্যাট, আইটিসহ ১২ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকায় বালু নিলাম করা হয়। উন্মুক্ত নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটা সম্পন্ন করা হয়েছে। নিলামের বালু মামুনকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বালু নিয়ে যাওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। 

“সেখানে অনেকেই সিলেট, সুনামগঞ্জ থেকে আসা বালুর ব্যবসা করছেন। তাদের বালু বৈধ। তারা ব্যবসা করছেন। তাদের বালু যদি মামুন নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যবসায়ীরা এ নিয়ে অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” 

অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ বলেন, “বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলব। এবং দ্রুত সমাধান করব।”