০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফায়ারিং রেঞ্জে প্রশিক্ষণে নিহত রিফাতকে সামরিক মর্যাদা আর চোখের জলে বিদায়

জানাজা শেষে সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 10 Sep 2026, 05:45 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফায়ারিং অনুশীলনকালে ট্যাংকের ভেতরে গোলা বিস্ফোরণে নিহত সেনাসদস্য (গানার) তাসনিম রিফাতের মরদেহ রাজশাহীতে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর সামাজিক ও সামরিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বাদ জোহর রিফাতের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাকে সামরিক মর্যাদা প্রদান করেন। পরে সামাজিক মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

সকালে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ হেলিকপ্টারে করে রিফাতের মরদেহ প্রথমে রাজশাহী সেনানিবাসে আনা হয়। সেখান থেকে সড়কপথে তা পৌঁছায় তার জন্মস্থান পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের বিন্দারামপুর গ্রামে। 

মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও গ্রামবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। 

আইএসপিআরের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পাতায় বুধবার দুপুরে বলা হয়, ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় এই ‘আকস্মিক দুর্ঘটনা’ ঘটে।

এতে বলা হয়, দুর্ঘটনায় আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারযোগে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তাসনিম রিফাতের বয়স হয়েছিল মাত্র ২৮ বছর। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তিনি ‘জুঁই’ নামে আড়াই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। 

স্বজনরা বলেন, চার ভাইবোনের মধ্যে রিফাত ছিলেন দ্বিতীয়। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের স্বপ্নের অংশ ছিলেন তিনি। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ধীরে ধীরে পরিবারের কাছে হয়ে ওঠেন গর্বের মানুষ। কর্মজীবনে দায়িত্বশীল ও শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন রিফাত। কর্মক্ষম ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন তার বাবা আসাদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, তাসনিম রিফাতের ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিং অনুশীলনের শেষ দিন ছিল বুধবার। বৃহস্পতিবার বগুড়া সেনানিবাসে যোগদান করে শুক্রবার তার বাড়ি আসার কথা ছিল। সে একদিন আগেই বাড়ি আসল। কিন্তু লাশ হয়ে। 

এ ধরনের ঘটনা যেন না হয়, সেজন্য সবাইকে আরও সতর্ক হওয়ার কথাও বলেন আসাদুল ইসলাম। 

আরও পড়ুন:

হাটহাজারীতে অনুশীলনের সময় দুর্ঘটনা, ২ সেনা নিহত

ফায়ারিং রেঞ্জে প্রশিক্ষণে নিহত ২ সৈনিক: শান্তশিষ্ট পিয়াসের মৃত্যু