Published : 06 Jan 2025, 09:01 AM
মাদারীপুর-ফরিদপুরের দুই উপজেলা শিবচর-ভাঙ্গার সংযোগস্থল সরদার মাহমুদের চর খেয়াঘাট।
ঘাটটি দিয়ে যুগ যুগ ধরে নৌকায় খেয়া পার হয়ে আশপাশের গ্রাম ও হাট-বাজার, বিদ্যালয়, হাসপাতালে যেতে হয়েছে দুই পাড়ের ১০ গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষের।
জরুরি মুহূর্ত ছাড়াও স্বাভাবিক সময়ে খেয়াঘাট পার হওয়াও ছিল বেশ বিড়ম্বনার।
অবশেষে সেই ভোগান্তির অবসান হল প্রবাসী ও এলাকাবাসীর যৌথ প্রচেষ্টায় কাঠ-বাঁশের তৈরি সেতুর মাধ্যমে।
৬০০ ফুট দৈর্ঘ্য, সাড়ে তিন ফুট প্রস্তের সেতুটি দুই মাস ধরে তৈরিতে ব্যয় হয়েছে দুই লাখ টাকা।
২০২৪ এর শেষ সূর্যাস্তের মূহূর্তে সেতুটি উদ্বোধন করা হয়েছে।
প্রবাসীদের অর্থায়নে নির্মিত কাঠের সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে ‘প্রবাসী সেতু’। সেতুটি দেখতে নদের দুই পাড়ে প্রতিদিন জড়ো হচ্ছে মানুষ।
এলাকার বাসিন্দা হৃদয় মাহমুদ বলেন, “আমার বাড়ি নিলখীতে। মাঝে মাঝেই আমি এ খেয়াঘাট দিয়ে পারাপার হই। নৌকায় পারাপারের সময় নানা দুর্ভোগ পোহাতে হত। এখন এই সেতু হওয়াতে আমরা খুশি। স্বল্প সময়ে পারাপার হয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারব। এ জন্য আমরা প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানাই।”
রাজু আহমেদ খান নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, “নতুন বছরে নতুন উপহার পেলাম। এতো বড় কাঠের সেতু আমি কখনও দেখিনি। আমার মনে হয় জেলার মধ্যে এতো বড় কাঠের সেতু নেই। উদ্বোধনের কথা শুনে সেতুটি দেখতে এলাম।”
নিলখী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল রহিম লপ্তি বলেন, “আমাদের এলাকার যুবসমাজের উদ্যোগে ও প্রবাসীদের অর্থায়নে বিশাল এই কাঠের সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সকলকে ধন্যবাদ জানাই। কাঠের সেতুটি নির্মাণ করায় দুই উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষের অনেক উপকার হয়েছে।”
ওই এলাকার ইতালি প্রবাসী কামাল আহমেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, “আমাদের অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল, এলাকার এই সেতুটি নির্মাণে ভূমিকা রাখব। কাঠের সেতুটি নির্মাণ করতে অবদান রাখায় খুব ভালো লাগছে।”
মাদারীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়া বলেন, “আমি কাঠের তৈরি সেতুটি দেখতে যাব। ভবিষ্যতে যেন এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা যায়, সেই ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”