Published : 25 Aug 2026, 08:01 PM
ঢাকার সাভারে সুরেশ্বর দরবার শরিফের পীরের অনুসারী সাধক কাজি জাবের আহমেদ ওরফে জাবের আল জাহাঙ্গীরের বাড়িতে অনুষ্ঠেয় ওরস বন্ধের দাবিতে উপজেলা প্রশাসন ও থানায় স্মারকলিপি দিয়েছেন ‘তৌহিদী জনতা’।
একই সঙ্গে ওরসের আয়োজক কাজি জাবের আহমদের বিরুদ্ধে ‘ইসলামবিরাধী ও বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযাগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেনও তারা।
অপরদিকে, বুধ ও বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় ওরসে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ওরসে উসকানিমূলক বক্তব্য না দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজকদের প্রতি আহ্বান করা হয়েছে।
রোববার ‘তৌহিদি জনতা’র ব্যানারে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সাভার মডেল থানায় স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে হেফাজতে ইসলাম, বিএনপি, যুবদল, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা স্বাক্ষর করেন।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “দুই পক্ষই আমার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। তবে যার যার ধর্ম পালনে সবারই স্বাধীনতা রয়েছে। ওরশের আয়োজকদের সঙ্গেও কথা হয়েছে এবং তাদেরকে বলা হয়েছে যেন উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য না দেন।
“এ ছাড়া নামাজ চলাকালীন যেন ওরসের মাইক বন্ধ রাখা হয় সেটাও তাদের বলা হয়েছে। এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের সঙ্গেও কথা হয়েছে, তাদেরকে বুঝিয়ে বলা হয়েছে, তারা যেন অপ্রীতিকর কোনো ঘটনা না ঘটান। তাছাড়া পুলিশ প্রশাসন নজরদারিত রাখবে এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ওরস চলাকালীন কাজ করবেন।”
হেফাজতে ইসলাম ঢাকা জেলা (উত্তর) শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম বলন, স্থানীয় আলেমরা বিষয়টি তাদের জানিয়েছেন। ইসলাম ধর্ম নিয়ে কোনো অপপ্রচার হলে তার বিরুদ্ধ কথা বলা প্রয়োজন বলেই তারা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হাক্কানী বলেন, “কাজি জাবের আহমেদের সঙ্গে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই। তবে ইসলামের নামে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।”
তার দাবি, ওরসের নামে ইসলামবিরোধী কোনো কার্যক্রম হয়ে থাকলে তা বন্ধ করা প্রয়োজন।
সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলন, “বিষয়টি নিয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাচনা হয়েছে। ওরসের আয়োজকদেরও বলা হয়েছে, তারা ধর্মীয় উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য যেন না দেয়। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে তারা যেন ওরস আয়োজন করে। ওরসে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে এজন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবং ওরস আয়োজনের আগে জেলা প্রশাসকের থেকে অনুমতি নিতে তাদের বলা হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওরসের আয়োজক কাজি জাবের আহমেদ ওরফে জাবের আল জাহাঙ্গীরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।
এর আগেও ইসলাম নিয়ে অপপ্রচার করার অভিযোগ তুলে ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে উপজেলার বনগাঁও ইউনিয়নের চাকুলিয়া এলাকায় মাওলানা কাজি আফসার উদ্দিন বাড়ি ও মাজার শরিফে ‘তৌহিদী জনতা’ হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।