যশোরে প্রবাসীর স্ত্রীর ‘আত্মহত্যা’, ভিডিওতে স্থানীয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ
এ ঘটনায় শিক্ষকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেছেন নিহতের ভাই।
যশোরের শার্শা উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রী বিষপানে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর আগে নিজের মোবাইল ধারণ করা ভিডিওতে স্থানীয় এক শিক্ষককে ‘মৃত্যুর জন্য দায়ী’ বলে অভিযোগ করেছেন ওই নারী।
এ ঘটনায় রোববার দুপুরে মৃতের ভাই ওই শিক্ষকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন বলে জানান শার্শা থানার ওসি শামিনুল হক।
মারা যাওয়া চম্পা খাতুন (৩০) উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের ধান্যতাড়া গ্রামের প্রবাসী মিন্টু গাজীর স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি পার্শ্ববর্তী ভবানীপুর গ্রামে।
মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, শনিবার বেলা ১১টার দিকে স্বামীর বাড়িতে বিষপানের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন চম্পা। পরে তাকে বাগআঁচড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখান থেকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চম্পার ভাই তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় ১৬ বছর আগে মিন্টু গাজীর সঙ্গে তার বোনের বিয়ে হয়। তাদের ১২ বছর বয়সি মেয়ে ও ছয় বছর বয়সি ছেলে রয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে মিন্টু বিদেশে যান।
তরিকুলের অভিযোগ, ভবানীপুর গ্রামের সোলেমানের ছেলে এবং স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কবির হোসেনের সঙ্গে চম্পার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
বিয়ের আশ্বাস দিয়ে কবির বিভিন্ন সময়ে চম্পা ও তার স্বামীর পাঠানো টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে সম্প্রতি কবির বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চম্পার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে চম্পা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
মৃত্যুর আগে চম্পা নিজের মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে তিনি কবির হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা বলে নিজের মৃত্যুর জন্য তাকে দায়ী করেন।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “সে আমার সব শেষ করেছে। আমার মৃত্যুর জন্য একমাত্র কবির দায়ী, আর কেউ নয়।” ভিডিওতে তার হাতে একটি বোতল ও কিছু ওষুধও দেখা যায়।
এদিকে, ঘটনার পর শিক্ষক কবির হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ওসি শামিনুল হক বলেন, “এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।”
