Published : 30 Jul 2026, 08:02 PM
ফরিদপুর সদরে এক বৃদ্ধাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে; যিনি ১০ বছর আগে একইভাবে সৎ মাকে হত্যা করেছিলেন বলে ভাষ্য পুলিশের।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার শহরতলীর বায়তুল আমানের রহমত মোল্যার ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত দত্ত।
নিহত সামেলা বেগম (৬০) ওই এলাকার প্রয়াত শেখ আকবরের স্ত্রী। তার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। এর মধ্যে ছোট ছেলে রাহিম শেখের (৩০) বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, রাহিম শেখ মানসিক বিকারগ্রস্ত ও মাদকাসক্ত। তুচ্ছ কারণে মাঝেমধ্যে মায়ের সঙ্গে রাহিমের ঝগড়া হত। কয়েকদিন আগেও মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টা করেন তিনি।
এদিন দুপুর পৌনে ১টার দিকে বাড়িতে পরিবারের অন্য সদস্যরা না থাকার সুযোগে ধারাল অস্ত্র দিয়ে বৃদ্ধা মাকে কোপাতে থাকেন রাহিম। এতে বৃদ্ধার মাথা থেঁতলে মগজ বের হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই বৃদ্ধার লাশ পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন।
স্বজনরা জানান, ২০১৬ সালে সৎ মাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা মামলায় রাহিম প্রায় ছয় বছর কারাগারে ছিলেন। পরে তাকে জামিনে বের করা হয়। এরপরও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন রাহিম। এ ছাড়া তার ঘরে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জামও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সামেলার মেয়ে কাকুলী আক্তার বলেন, “সকালে ঘুম থেকে উঠে মায়ের সাথে খাওয়া-দাওয়া করে কাজে চলে যাই। আমার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ থাকায় আলাদা ঘরে থাকতে দেওয়া হত। আমি যখন বেরিয়ে যাই তখন সে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। দুপুরে মাকে মেরে ফেলছে শুনে বাড়িতে ছুটে আসি।”
পুলিশ পরিদর্শক সুকান্ত দত্ত বলেন, এ ঘটনার পর থেকে নিহতের ছেলে পলাতক আছেন। তার ঘর থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।