টিকটকের ‘ফ্যান্টাসি’তে মোবাইল বিক্রি করে ঘর ছাড়ে প্রাথমিকের ৪ ছাত্রী: পুলিশ
পুলিশ সুপার বলেন, স্বাধীনভাবে জীবনযাপন ও উপার্জনের উদ্দেশে তারা মোবাইল ও অলঙ্কার নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে।
বাবার মোবাইল বিক্রি করে ঘর ছাড়া কুমিল্লার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চার ছাত্রীকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আট থেকে ১২ বছর বয়সি এই শিশুদের তিন জন পঞ্চম শ্রেণির এবং একজন তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
সোমবার সকালে ওই শিক্ষার্থীরা স্কুলের অনুষ্ঠানের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, চার শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হলেও ক্লাসে উপস্থিত হয়নি। বিষয়টি ওই দিন বিকালে স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তারা পুলিশ সুপারকে জানান।
ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অনুসন্ধানে নামে। স্বজনেরা থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের ছবিসহ দেশের সব থানায় বার্তা পাঠায়।
পরে মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় ওই চার শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, উদ্ধার শিশুদের সঙ্গে আলাপকালে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নানা তথ্য উঠে আসে। তারা পড়াশোনার প্রতি তেমন আগ্রহী নয় বলেও পুলিশকে জানায়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা নিয়মিত টিকটকে ভিডিও আপলোড করতো। এর মধ্য দিয়ে টিকটকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতো এবং একাধিক তরুণের সঙ্গে তাদের সখ্য তৈরি হয়। যদিও তাদের প্রকৃত নাম-ঠিকানা তারা জানতো না।
তাদের দেওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ সুপার বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভুল ধারণা ও ফ্যান্টাসিতে বিভ্রান্ত হয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন ও উপার্জনের উদ্দেশে তারা বাসা থেকে ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও অলঙ্কার নিয়ে বেরিয়ে পড়ে।
“বাসা থেকে বের হয়ে কুমিল্লার টাউন হল সুপার মার্কেটে চার হাজার টাকায় একটি মোবাইল বিক্রি করে শিক্ষার্থীরা। সেই টাকা নিয়ে তারা প্রথমে ঢাকায় যায়। তারা চেয়েছিল সেখানে বাসা ভাড়া বা কোনোভাবে নিজেদের মতো থাকার ব্যবস্থা করতে।
“তবে তাদের পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় ওই দিনই তারা এক শিক্ষার্থীর দাদা বাড়ি চুনারুঘাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। পরে সেখান থেকেই তাদের উদ্ধার করা হয়।”
জেলা গোয়েন্দা শাখা এর মধ্যেই বিক্রি করা মোবাইল এবং সঙ্গে থাকা স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে। শিশুদের কাছ থেকে মোবাইল কেনা দোকানদারকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। চার শিক্ষার্থীকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ এখনো কাজ করছে জানিয়ে পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, “এই শিশুরা কাদের টিকটক অ্যাকাউন্ট অনুসরণ করে বাড়ি ছেড়েছিল তাদের সনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। যদিও তাদের পরিচয় অনলাইন সর্বস্ব- তারপরও এসব অ্যাকাউন্ট কারা পরিচালনা করেছে সেগুলো খুঁজে দেখা হচ্ছে।”
এছাড়া এই ঘটনায় অভিভাবকদের কোনো গাফিলতি ছিল কিনা কিংবা তাদের বিরুদ্ধে কোনো সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেওয়া যায় কিনা সেই বিষয়টি পর্যালোচনা করার জন্য পুরো ঘটনা আদালতকে জানানো হয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি সাধারণ নাগরিকদের অনুরোধ করে বলেন, “যখনই কোন সন্তান অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পড়বে সেজন্য পুলিশের সহযোগিতা চাইবেন। রাত -বিরাতে কিংবা কেউ নিখোঁজ হলে আমরা কুমিল্লার মানুষকে সহযোগিতা করতে সবসময় প্রস্তুত আছি।”
