Published : 16 Aug 2023, 09:30 PM
ফরিদপুরে একযুগ পর মানবপাচার মামলায় এক নারী ও পুরুষকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
বুধবার ফরিদপুরের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান আসামিদের অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) স্বপন পাল।
দণ্ডিতরা হলেন- নগরকান্দা উপজেলার শমসের খা (৪৪) এবং সদরপুর উপজেলার কুটি বেগম ওরফে কাজল খান ওরফে আনোয়ারা (৪৭)।
মামলার বরাত দিয়ে পিপি স্বপন পাল বলেন, নগরকান্দা উপজেলার শমসের খা এক নারীকে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তার স্বামীর কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেন।
তিনি বলেন, শমসেরের বড় ভাই মোকলেস খা মালয়েশিয়ায় কাজ করেন। শমসের ওই ব্যক্তিকে জানান, তার ভাইয়ের মাধ্যমে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার অনেক নারী-পুরুষ বিদেশে গিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
“এরপর ভিসা হয়েছে বলে ২০১১ সালের ১৩ জানুয়ারি তার স্ত্রীকে শমসের ঢাকায় নিয়ে যান। ৩০ মে ওই ব্যক্তি জানতে পারেন তার স্ত্রীকে ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন।”
পিপি আরও বলেন, পরে তিনি জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সহায়তায় ২০১১ সালের ২ জুন নগরকান্দা থানায় মামলা করেন। এ ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
তিনি বলেন, এরপর নগরকান্দা থানার এসআই খালিদ আহমেদ তদন্ত করে ২০১১ সালের ১৩ অক্টোবর শমসের খা ও কুটি বেগম বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। বিচার কাজ শেষে বুধবার আদালত এ রায় দেয়।
রায়ে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা জরিমানা করে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।
জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির মানবপাচার প্রতিরোধ সেলের দায়িত্বরত কর্মকর্তা দীপ্তি বল বলেন, ২০১১ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে ভারতের বেঙ্গালুরুর এক পতিতালয় থেকে ওই নারীসহ ২০ তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, পরে তাদের কলকাতায় লিলো হোম নামে একটি সরকারি সেফ হোমে রাখা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।