পাথর লুটেরাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা হচ্ছে: বিভাগীয় কমিশনার
‘সাদাপাথর’ এলাকায় লুটপাটের ঘটনার সাত পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি।
জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথর’ এলাকা থেকে পাথর লুটকারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার রেজা-উন-নবী।
তিনি বলেছেন, “এ ব্যাপারে গোয়েন্দা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে কাজ চলছে। যাতে প্রকৃত লুটপাটকারীদের নাম তালিকায় প্রকাশ হয় এবং নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে ব্যাপারে লক্ষ্য রেখে কাজ হচ্ছে। সেজন্য একটু সময় দেওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।”
বুধবার দুপুরের দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদকিদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
পাথর লুটের ঘটনায় প্রশাসনের কেউ জড়িত থাকলে তিনিও আইনের আওত্তায় আসবেন মন্তব্য করে বিভাগীয় কমিশনার রেজা-উন-নবী বলেন, “সিলেটে চোরাচালান ও খনিজ সম্পদ রক্ষায় জনবল বাড়ানো হচ্ছে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির আরও তিনটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এর মধ্যে একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের জনবলও বাড়ানো হচ্ছে। এখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। এ ছাড়া আরও ক্যাম্প এবং চেকপোস্টও বসানো হবে।”
সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতার বিষয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের কথা হচ্ছে, রাষ্ট্রের এই সম্পদ তসরুফের সঙ্গে যারা জড়িত বা যারা চুরি করেছে তাদের বিরুদ্ধে যেমন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তেমনি এই সম্পদ সুরক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করব।”
৯ জুলাই ‘পাথর কোয়ারি’ খুলে দেওয়া নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের বক্তব্য লুটপাটকারীদের উৎসাহ দিয়েছে কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি সেখানে বলেছিলাম যে, সারাদেশের পাথর কোয়ারি মত সিলেটের কোয়ারিও খুলে দেওয়া যায় কি-না সে বিষয়টি গবেষণা করা যেতে পারে। কিন্তু আমার এ বক্তব্য কেউ টুইস্ট করলে তা আমার দায় না।”
প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত কমিটি
সিলেটে ‘সাদাপাথর’ এলাকায় লুটপাটের ঘটনার সাত পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। বুধবার দুপুরে প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ।
তবে প্রতিবেদনে কী কী বিষয় এসেছে তা জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ। তিনি বলেন, “তদন্তে যা পেয়েছি, তা আমরা প্রতিবেদনে জমা করেছি। প্রতিবদনে ১০টি সুপারিশ করা হয়েছে।”
এদিকে, বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেন জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ। বৃহস্পতিবার নতুন জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমের দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ‘সাদাপাথর’ লুট নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ১২ অগাস্ট তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। পরে আরও তিন দিন সময় বাড়ানো হয়।
কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহ। দুই সদস্য হলেন- কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আফজালুল ইসলাম।
তদন্ত কমিটি গঠনের পর থেকেই শুরু হয় সমালোচনা। বিশেষত কমিটিতে কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহারকে রাখা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছিল। সাদাপাথর লুটপাট ঠেকাতে ব্যর্থতা ও লুটপাটকারীদের ব্যাপারে উদাসীনতার অভিযোগ রয়েছে ইউএনওর বিরুদ্ধে।
সমালোচনার মুখে সোমবার সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) এবং কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারকে বদলি করা হয়। ‘সাদাপাথর’ লুটপাটের ঘটনায় দেড় থেকে দুই হাজার জনকে আসামি করে মামলা করেছে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো।
আরও পড়ুন:
