টাঙ্গাইলে স্ত্রী-সন্তানকে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা, স্বামীর যাবজ্জীবন
মামলায় বলাহয়, ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রী ও শিশুসন্তানের শরীরে বার্নিশ ও তারপিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন রাকিব।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় যৌতুক না পেয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াস আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু জানান।
রায় ঘোষণার পর তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বরাতে পিপি ওমরাও খান দিপু বলেন, বিয়ের পর থেকেই ৫ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী কনা আক্তার ইতির (২১) ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন রাকিব। বাধ্য হয়ে কনা ১৮ মাসের সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি মির্জাপুরের আজগানা গ্রামে চলে যান।
২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর বিকালে রাকিব শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রী ও শিশু সন্তানের শরীরে বার্নিশ ও তারপিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুনে কনার মুখমণ্ডল, বুক, পিঠ ও হাত এবং শিশুর কপাল ও পা মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়। পরে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।
সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় দেন বলে জানান তিনি।
পিপি বলেন, আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এছাড়া আইনের অপর ধারায় তাকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
তবে দুটি সাজা একই সঙ্গে চলবে বলে রায়ে বলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
