১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে চুরির মামলার ২ আসামি গ্রেপ্তার, সাত ভরি স্বর্ণ-টাকা উদ্ধার

চোরেরা মা জুয়েলার্সের সিন্দুক ভেঙে ২৪ ভরি ৯ আনা স্বর্ণ এবং ৩৫ ভরি রূপাসহ নগদ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।

চাঁদপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Oct 2025, 05:02 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:34 PM

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে সাত ভরি স্বর্ণ ও পাঁচ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুলনা ও চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে জানিয়েছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব।

গ্রেপ্তাররা হলেন, পারভেজ মিলন (৪৬) ও মো. খলিল মৃধা (৪০)। পারভেজ সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার ফিরোজপুর গ্রামের ইসমাইল সরদারের ছেলে। তিনি খুলনা সদরের নিরালা আবাসিক এলাকায় বসবাস করেন।

খলিল পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি থানার দক্ষিণ ইন্দুরকানি গ্রামের নেছার উদ্দিন মৃধার ছেলে। তিনি থাকেন চাঁদপুর সদরের এনায়েতনগর শেখের হাট আশ্রয় বাড়িতে।

পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার রকিব বলেন, গত ১৫ অক্টোবর রাতে ফরিদগঞ্জ বাজারের থানা মোড় এলাকার মন্টু কর্মকারের ‘মা জুয়েলার্সে’ চুরির ঘটনা ঘটে। 

চোরেরা দোকানের ক্যাশ বক্সের তালা ভেঙে প্রায় ২৫ হাজার টাকা ও সিন্দুকের তালা ভেঙে ২৪ ভরি ৯ আনা স্বর্ণ, যার আনুমানিক মূল্য ৫০ লাখ টাকা এবং ৩৫ ভরি রূপা, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৫ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়।

এই ঘটনায় মন্টু কর্মকার ২২ অক্টোবর ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান থানার এসআই মোহাম্মদ আরিফুর রহমান।

তিনি থানার ওসি মো. শাহ্ আলমের তত্ত্বাবধানে একটি চৌকস দল নিয়ে এবং তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রথমে মূল আসামী পারভেজকে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে খুলনা শহরের নিউ মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন। তার ভাড়া বাসা থেকে চুরি যাওয়া ৭ ভরি ১ আনা ১ রতি স্বর্ণালংকারসহ দুটি মোবাইল ফোন এবং চোরাই কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

পরে পারভেজের দেওয়া তথ্য মতে এনায়েতনগর থেকে একই দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খলিলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

জিজ্ঞাসাবাদে পারভেজ জানিয়েছে, চুরি করে নেওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে ১২ ভরি বিভিন্ন জায়গায় ১৩ লাখ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন এবং তার মধ্যে পাঁচ লাখ টাকা সহযোগী খলিল মৃধাকে দিয়েছেন। খলিলের কাছ থেকে পুলিশ সে টাকা উদ্ধার করেছে। 

বাকি স্বর্ণ উদ্ধার ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়। 

পুলিশ সুপার আরও বলেন, কামাল পারভেজ মিলন আন্তঃজেলা চোর চক্রের মূল হোতা। সহযোগি অন্যান্য আসামীদের সহায়তায় তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় স্বর্ণালংকার দোকানে চুরি করে আসছে। তার বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতিসহ সাতটি মামলা এবং খলিল মৃধার বিরুদ্ধে দুটি সিআর মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। 

বৃহস্পতিবার তাদেরকে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) মো. লুৎফুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার মুকুর চাকমা উপস্থিত ছিলেন।