Published : 14 Mar 2026, 08:42 PM
দ্বিতীয় দফা সময় বাড়ানোর পরও সুনামগঞ্জে হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শেষ না হওয়া এবং কাজে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই অবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতারা অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সৈয়দ মুহিবুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক শাহ কামাল, বর্তমান সভাপতি রাজু আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলন, মোজাহিদুল ইসলাম মজনু, সংবাদপত্র ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, হাওরে সামান্য বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এই বৃষ্টির চাপ সইতে পারছে না ফসলরক্ষা বাঁধগুলো। ফাটল দেখা দিয়েছে, ধসে পড়ছে। কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এবং প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় এসব হচ্ছে।
তারা অভিযোগ করেন, যে প্রক্রিয়ায় যখন যেখানে বাঁধের প্রকল্প নেওয়ার কথা প্রশাসন সেটা করেনি। মনগড়া প্রকল্প নিয়ে যা-ইচ্ছে-তাই কাজ করেছে। শতাধিক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হচ্ছে। তারপরও যথাসময়ে কাজ শেষ করা যায়নি। এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে প্রকল্পগুলো। যার ফলে ফসলহানির শঙ্কায় আছেন কৃষকরা।
বক্তারা বলেন, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণেই এবার বাঁধের কাজে বিলম্ব হয়েছে। যারা বাঁধের কাজে দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছে এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প দিয়ে সরকারের কেটি কোটি টাকা অপচয় করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, “হাওরের বাঁধের মাটির কাজ প্রায় শেষ। এখন ঘাস লাগানো ও দুর্মুজের কাজ হচ্ছে। কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।”
গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর হাওরের বাঁধের কাজ শুরু হয়; ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এই সময়ে এসেও বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় আরও ১৫ দিন সময় বাড়ানো হয়। এই মেয়াদ রোববার শেষ হচ্ছে। কিন্তু বাঁধের কাজ বাকি রয়ে গেছে।
প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে চলতি বছর ৭১০টি প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার অর্ধশত হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে।