Published : 28 Sep 2024, 12:50 AM
কুমিল্লার দেবিদ্বারে দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যার পর ঘরের মধ্যেই লাশ মাটিচাপা দিয়ে রাখেন আরেক দিনমজুর।
চারদিন পর শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে নিহতের লাশ উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের ওই ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত দিনমজুর মো. নুরুল ইসলাম (৫২) হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বরকান্দি গ্রামের প্রয়াত মোখলিস মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় আটক দিনমজুর নোয়াজ আলী (৫৫) কুমিল্লার দেবিদ্বারের বরকান্দি গ্রামের (লামা বাড়ির) প্রয়াত আবদুল আলীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেই তীব্র দুর্গন্ধ তাদের নাকে আসে। পরে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে স্থানীয়রা দেখতে পান, নোয়াজের ভাড়া নেওয়া টিনের ঘরের গর্ত থেকে মানুষের হাতের আঙুল বেরিয়ে আছে।
স্থানীয় জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ইদ্রিস মিয়া বলেন, “মানুষের চিৎকারে আমরা ছুটে এসে দেখি, ঘরের ভেতরে লাশ পুঁতে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি পুলিশকে জানাই।
ইউপি সদস্য ইদ্রিস বলেন, পালিয়ে যাওয়ার পথে নোয়াজ আলীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
নোয়াজকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে ইউপি সদস্য বলেন, “কাজের কথা বলে গত ২২ সেপ্টেম্বর নুরুল ইসলামকে ডেকে আনেন নোয়াজ আলী।
“নুরুল রাতে নোয়াজের সঙ্গেই ঘুমাতেন। সোমবার গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় নুরুল ইসলামকে পিটিয়ে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে মাটি চাপা দেন নোয়াজ।”
আটকের পর খুনের দায় স্বীকার করে নোয়াজ স্থানীয়দের বলেন, প্রায় চার বছর আগে আর্থিক লেনদেন নিয়ে নুরুলের সঙ্গে তার শত্রুতা সৃষ্টি হয়। তখন নোয়াজ আলীর ছেলে শিমুল অসুস্থ হয়ে মারা যায়।
নোয়াজের ধারণা, কবিরাজের মাধ্যমে তাবিজ করে তার ছেলেকে মরতে বাধ্য করেছেন নুরুল। পুত্র শোকে কিছুদিন পর নোয়াজের স্ত্রীও মারা যান।
দেবিদ্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহিনুল ইসলাম বলেন, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে সোমবার গভীর রাতে নুরুলকে পিটিয়ে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন বলে স্বীকার করেছেন নোয়াজ।
শাহিনুল আরও বলেন, অর্থগলিত লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার বিকালে নোয়াজ আলীকে কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান পরিদর্শক শাহিনুল ইসলাম।