২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

কোরবানি ঈদ: গোপালগঞ্জে ৪০ হাজারের বেশি পশু প্রস্তুত, উদ্বৃত্ত ৫ হাজার ৫১৭

“গোপালগঞ্জের কোনো পশুতে খামারিরা কোনো ধরনের কেমিক্যাল বা অপদ্রব্য প্রয়োগ করেননি।”

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 May 2026, 09:53 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:40 PM

গোপালগঞ্জে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ৪০ হাজার ৯৫৮টি গবাদিপশু। জেলার চাহিদা ৩৫ হাজার ৪৪১টি হওয়ায় উদ্বৃত্ত থাকছে ৫ হাজার ৫১৭টি পশু।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলার পাঁচ উপজেলার ৪ হাজার ৮৩৮টি খামারে এসব পশু লালন-পালন করা হয়েছে। 

খামারিদের তদারকি ও পরামর্শ দিয়ে নিরাপদ উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণ নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো ধরনের কেমিক্যাল বা ক্ষতিকর পদার্থ ব্যবহার করা হয়নি।

ফলে এসব গবাদিপশুর মাংস মানবদেহের জন্য নিরাপদ বলে জানিয়েছে গোপালগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র সরদার জানান, এ বছর জেলায় কোরবানির জন্য ৪০ হাজার ৯৫৮টি পশু পস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ হাজার ২টি ষাঁড়, ১৭৫টি বলদ, ৫ হাজার ২৫১টি গাভী, ৮০টি মহিষ, ১৪ হাজার ২৯৫টি ছাগল এবং ১৫৫টি ভেড়া রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমাদের জেলায় কোরবানিতে পশুর চাহিদা ৩৫ হাজার ৪৪১টি। আমাদের জেলা কোরবানির পশু উৎপাদনে উদ্বৃত্ত জেলা। এখানে উদ্বৃত্ত গবাদি পশুর সংখ্যা ৫ হাজার ৫১৭টি।” 

ওই কর্মকর্তা জানান, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় কোরবানির জন্য ৯ হাজার ২৫০টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এ উপজেলায় চাহিদা রয়েছে ৯ হাজার ১৪টি পশুর। ফলে উদ্বৃত্ত থাকছে ২৩৬টি পশু।

মুকসুদপুর উপজেলায় প্রস্তুত রয়েছে ১২ হাজার ১৮৭টি পশু। সেখানে চাহিদা ১১ হাজার ৭৫৫টি। উদ্বৃত্ত ৪৩২টি। কাশিয়ানী উপজেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে ৬ হাজার ৯২০টি পশু। চাহিদা ৪ হাজার ৫৮৫টি হওয়ায় উদ্বৃত্ত থাকছে ২ হাজার ৩৩৫টি পশু।

কোটালীপাড়া উপজেলায় প্রস্তুত রয়েছে ৮ হাজার ৩৬২টি পশু। চাহিদা ৫ হাজার ৯৬৫টি। ফলে উদ্বৃত্ত থাকছে ২ হাজার ৩৯৭টি পশু। এ ছাড়া টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় প্রস্তুত করা হয়েছে ৪ হাজার ২৩৯টি পশু। সেখানে চাহিদা ৪ হাজার ১২২টি এবং উদ্বৃত্ত ১১৭টি পশু।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গোবিন্দ চন্দ্র বলেন, “খড়, গম ও ডালের ভুষি, ঘাস, খৈল ও কুড়া খাওয়ানোর মাধ্যমে এসব পশু মোটা-তাজা করা হয়েছে। গোপালগঞ্জের কোনো পশুতে খামারিরা কোনো ধরনের কেমিক্যাল বা অপদ্রব্য প্রয়োগ করেননি। 

“আমাদের পরামর্শ অনুযায়ী তারা মানবদেহের জন্য নিরাপদ মাংস উৎপাদন করেছেন। এখন এসব পশু বাজারজাত করার জন্য আমরা খামারিদের পরামর্শ দিচ্ছি। ইতোমধ্যেই খামার থেকে গবাদি পশু বিক্রি শুরু হয়েছে।”

তিনি বলেন, “জেলার ১৫টি স্থানে গবাদি পশু ক্রয়-বিক্রয়ের হাট বসেছে। এসব হাটে আমাদের মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করছে। কোরবানির হাটে জাল টাকা লেনদেন বন্ধ এবং ছিনতাইকারীদের হাত থেকে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের রক্ষার জন্য গোপালগঞ্জে ছয়টি ক্যাশলেস পশুর হাট বসানো হয়েছে।

“এই হাটগুলোতে ক্রেতা ও বিক্রেতারা নগদ টাকা ছাড়াই ব্যাংক হিসাব বা অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন। এতে নগদ টাকা বহনের ঝামেলা কমবে। ক্যাশলেস লেনদেনে ক্রেতা-বিক্রেতাদের কোনো অতিরিক্ত খরচ নেই।”

উদ্বৃত্ত পশু বাইরের জেলায় পাঠাতে খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান গোবিন্দ চন্দ্র। 

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা প্রভাস চন্দ্র সেন বলেন, “গোপালগঞ্জে উদ্বৃত্ত গবাদি পশু রয়েছে। তাই গবাদি পশু অন্য জেলায় পরিবহন করতে আমরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নিরাপদে কোরবানির পশু পরিবহনে সব ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন।”

পুশিলের সহায়তা পেলে কোরবানির গবাদি পশু বাজারজাত করণে খামারিরা এ বছর হয়রানির শিকার হবেন না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। 

গোপালগঞ্জ শহরের সোনাকুড় গ্রামের খামারি রাধেশ্যাম পোদ্দার বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শে তিনি গত ১০ বছর ধরে গরু পালন করে আসছেন। এ বছর তিনি ৮টি গরু মোটাতাজা করেছেন। 

এই খামারির দাবি, খামারের গরুর মাংস মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অন্তত ৫০ লাখ টাকায় ৮টি গরু বিক্রি করতে পারবেন। তবে এ বছর পশুখাদ্যের দাম বেশি থাকায় গবাদি পশু মোটাতাজা করতে বাড়তি খরচ হয়েছে।

ভারত বা অন্য দেশ থেকে পশু আমদানি না হলে কোরবানির হাটে স্থানীয় খামারিরা গবাদি পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে রাধেশ্যামের আশা। 

স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর গবাদি পশু বাজারজাত করতে ব্যাপক সহযোগিতা করছে বলেও তার ভাষ্য। 

তিনি বলেন, “এখানে আমার গরু বিক্রি না হলে ঢাকায় নিয়ে যাব।”