ঈশ্বরদীতে ডিম ভেঙে খামারিদের প্রতিবাদ
“একটি ডিম উৎপাদনে খরচ হয় নয় টাকারও বেশি, অথচ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭ টাকা ৮০ পয়সায়।”
ডিমের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণসহ পাঁচ দফা দাবিতে পাবনার ঈশ্বরদীতে বিক্ষোভ করেছেন খামারিরা। এ সময় তারা রাস্তায় ডিম ভেঙে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
রোববার দুপুরে ঈশ্বরদী পোল্ট্রি খামারি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ঈশ্বরদী-নাটোর মহাসড়কের মুলাডুলি বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।
ক্ষুব্ধ খামারিরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। অবরোধের কারণে পাবনা-নাটোর মহাসড়কে প্রায় ২০ মিনিট যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এতে সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হলে সাধারণ যাত্রীরা সাময়িক ভোগান্তিতে পড়েন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যান চলাচল শুরু হয়।
খামারিদের হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- ‘ডিমের সঠিক দাম চাই, ন্যায্য অধিকার চাই’, ‘খাদ্যের দাম কমাও, খামারিদের বাঁচাও’, ‘আমদানি নয়, দেশীয় খামার বাঁচাও’ ইত্যাদি।
খামারিদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সংগতি রেখে ডিমের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা, করপোরেট কোম্পানির একচেটিয়া ব্যবসার পরিবর্তে প্রান্তিক খামারিদের স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা দেওয়া, পোল্ট্রি খাদ্যের দাম দ্রুত কমানো, ভেটেরিনারি ওষুধের ওপর শুল্ক কমিয়ে বাজারমূল্য হ্রাস করা এবং করপোরেট সিন্ডিকেট ভেঙে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের ব্যবসায়িক অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা।
মুলাডুলি বাজারের বিসমিল্লাহ ভেটেরিনারির স্বত্বাধিকারী মোহা. বিপ্লব হোসেন বলেন, “করপোরেট সিন্ডিকেটের কারণে প্রান্তিক খামারিরা আজ অস্তিত্ব সংকটে। বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে খরচ হয় নয় টাকারও বেশি। খামারিদের টিকে থাকতে হলে অন্তত ১০ টাকা থেকে ১১ টাকায় ডিম বিক্রি করতে হবে। অথচ বর্তমানে বাজারে প্রতি ডিম বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭ টাকা ৮০ পয়সায়। প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় খাদ্যের দাম কমানোর আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই।”
বিক্ষোভে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় খামারি মফিজউদ্দিন মানিক, আয়েন খাঁ ও মাসুদ গাজী।
তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক বস্তা পোল্ট্রি খাদ্যের দাম ছিল ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকা। বর্তমানে সেই খাদ্যের দাম আড়াই গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা। একইভাবে ওষুধের দামও বেড়েছে কয়েকগুণ। অথচ সেই তুলনায় ডিমের দাম বাড়েনি।
ঈশ্বরদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ইউএলও) মোছা. আকলিমা খাতুন বলেন, “খামারিদের এই কর্মসূচির বিষয়ে আমাদের আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। সড়ক অবরোধ না করে তাদের উচিত ছিল প্রথমে উপজেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা। আমরা দ্রুতই খামারিদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি খোঁজ-খবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাব।”
