লক্ষ্মীপুরে হাসপাতালের অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ
ডান পায়ে ফোড়ার অপারেশনের জন্য গত ২ জুলাই সিটি হসপিটালে ভর্তি হন আবু ছায়েদ।
লক্ষ্মীপুর শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে পায়ে ফোড়া অপারেশনের সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে।
মো. আবু ছায়েদ (৫৫) লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে শহরের সিটি হসপিটালে মারা যান তিনি।
তার ছেলে দেলোয়ার হোসেন নিশান জানান, তার বাবার ডান পায়ে ফোড়ার অপারেশনের জন্য গত ২ জুলাই সিটি হসপিটালে ভর্তি হন। পরে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই হাসপাতালের মালিক ডা. রাকিবুল আহছান রোগীর পায়ে অপারেশন করেন।
অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগে তার বাবার শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকায় অপারেশন করানো হয়।
নিশান অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে তার বাবা বমি করেন। তখন হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক বা নার্সদের ডেকেও কাছে পাননি। কিছুক্ষণের মধ্যে তার বাবার মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসক এসে তা নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, “অপারেশন করানোর আগে চিকিৎসক বলেছে অপারেশনের পর পায়ের ব্যথা বাড়বে বা কমবে। কিন্তু তিনি মৃত্যুর ঝুঁকির কথা বলেননি। সঠিক সময়ে চিকিৎসক বা নার্স এসে চিকিৎসা দিলে হয়তো আমার বাবা মারা যেত না। তাদের অবহেলায় আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে।”
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সিটি হসপিটালে গিয়ে ডা. রাকিবুল আহছানকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে কল করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ইলিয়াস মাহমুদ বলেন, চিকিৎসাজনিত কোনো ক্রটি বা অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়নি। রোগীকে সঠিকভাবে অপারেশন এবং চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “অপারেশনের পর সাডেনলি যে কোনো রোগীর হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এ রোগীর ক্ষেত্রেও তেমনটি হয়েছে।”
ঘটনার সময় কর্তব্যরত নার্স সানি আক্তার বলেন, “রাতে রোগীর আত্মীয় যখন ডাকে আমি বাথরুমে ছিলাম।সেখান থেকে আসতে আমার যতসময় লেগেছে... এসেই আমি ডিউটি ডাক্তারকে কল দিয়েছি। উনি এসে দেখেন রোগী মারা গেছে।”
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আহম্মদ কবীর বলেন, হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে শুনেছি। এ বিষয়ে রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
