‘কাফনের কাপড় নিয়ে বসেছি, মরব তবু নিয়োগপত্র ছাড়া ফিরব না’
ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “এটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত।”
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়া ময়মনসিংহ জেলার ২২ প্রার্থী অনশন শুরু করেছেন।
বুধবার সকাল ১১টা থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নিয়ে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন তারা।
অনশনকারীদের দাবি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ময়মনসিংহ জেলায় মোট ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। ১৮ জন কাগজপত্র দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে প্রথম ধাপে ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। পরে আরও দুজন নিয়োগপত্র পেলেও একই নিয়োগ প্রক্রিয়ার ২২ জন এখনো নিয়োগপত্র পাননি।
তাদের অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন জেলায় চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে গেলেও ময়মনসিংহের ২২ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। কেন তাদের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছে, সে বিষয়েও তাদের স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেন অনশনকারীরা।
চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, “আজকের মধ্যেই আমরা নিয়োগপত্র হাতে চাই। নিয়োগপত্র ছাড়া এখান থেকে আমরা কেউ বের হব না। নিয়োগপত্র দেওয়া না হলে এখানেই অনশন চালিয়ে যাব। আমরা কাফনের কাপড় নিয়ে এসেছি। না খেয়ে মরব, তবু নিয়োগপত্র ছাড়া এখান থেকে ফিরব না।”
আরেক অনশনকারী হাসি আক্তার বলেন, “আমাদের নিয়োগপত্র কেন দেওয়া হচ্ছে না, সেটাও জানানো হয়নি। আমরা অন্যদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে যোগ দিতে চাই। নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে বাড়ি ফিরব না।”
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে স্থানীয়, জেলা, উপজেলা, বিভাগীয় কিংবা অধিদপ্তর পর্যায়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তীতে কোনো নির্দেশনা বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পাঠানো হলে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যথায় বর্তমানে যে সিদ্ধান্ত রয়েছে, সেটিই বহাল থাকবে।”
তিনি বলেন, “আমরা অনশনকারীদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলছি। আমাদের যে ক্ষমতা ও সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই। বিষয়টি জাতীয় পর্যায়েও অবগত রয়েছে। সচিব, মহাপরিচালক ও মন্ত্রী মহোদয়ও বিষয়টি জানেন।”
২২ জনকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “এটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত। গোয়েন্দা প্রতিবেদন গোপনীয়, এমনকি অত্যন্ত গোপনীয় হিসেবে সংরক্ষিত থাকে। তাই তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের সংশ্লিষ্টতার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তা আমাদের জানা বা প্রকাশ করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই অবগত আছেন। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়ন করছি।”
