২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

হলফনামা: সরোয়ারের আয় কমলেও সম্পদ বেড়েছে চার গুণ

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার বরিশাল সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নিয়ে গঠিত এই আসন থেকে চারবারের সংসদ সদস্য।

বরিশাল প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Jan 2026, 12:42 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:32 PM

বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের ঘোষিত বাৎসরিক আয় গত সাত বছরে কমলেও একই সময়ে তার মোট সম্পদ বেড়েছে প্রায় চার গুণ। একাদশ (২০১৮) ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামা তুলনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। 

২০১৮ সালের নির্বাচনে জমা দেওয়া হলফনামায় সরোয়ারের বাৎসরিক আয় দেখানো হয় ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ৯৮৮ টাকা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তার বছরে আয় দেখানো হয়েছে ৪০ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৯। গত সাত বছরের তার বার্ষিক আয় কমেছে আট লাখ ৪৫ হাজার ৪ টাকা। 

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার বরিশাল সদর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নিয়ে গঠিত এই আসন থেকে চারবারের সংসদ সদস্য। ত্রয়োদশ হলনামায় তার মোট সম্পদ দেখানো হয়েছে ১২ কোটি ২৫ লাখ ৬০ হাজার ৫১৬ টাকা। একাদশ সংসদে তার সম্পদের মোট মূল্য দেখানো হয়েছিল তিন কোটি ৫৯ লাখ ১৯ হাজার ৫৬২ টাকা। 

ত্রয়োদশ হলফনামায় মজিবর রহমান সরোয়ারের বাৎসরিক আয়ের মধ্যে কৃষি খাত থেকে দুই লাখ, স্থাবর সম্পদ থেকে ১৩ লাখ ৫০ হাজার, ব্যবসা থেকে ছয় লাখ, শেয়ার থেকে ছয় লাখ ৭৫ হাজার ও অন্যান্য খাত থেকে ১২ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে।  

২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় কৃষি খাত থেকে দুই লাখ, স্থাপনা থেকে ভাড়া ১৩ লাখ ৫০ হাজার, ব্যবসা থেকে ছয় লাখ, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র থেকে ছয় লাখ পাঁচ হাজার ৯৩৯ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ১২ লাখ টাকা আয় দেখানো হয়েছিল। 

এর মধ্যে তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে তিন কোটি ৩১ লাখ ৬০ হাজার ৯৭৪ টাকা। ব্যাংক-বীমায় জমা দুই কোটি ২৪ লাখ নয় হাজার ৯৮০ টাকা; ৮৫ লাখ টাকার বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার এবং স্থায়ী আমানতের সঞ্চয়পত্র রয়েছে ৯৫ লাখ টাকার। 

এ ছাড়া ৫০ লাখ টাকা মূল্যের জিপ, এক লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, তিন একর ২৬ শতাংশ কৃষি জমির মূল্য ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৮ টাকা, তিনটি ফ্ল্যাট ও একটি টিনের ঘর রয়েছে। যার মূল্য তিন কোটি ১৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। ৫০ তোলা স্বর্ণের মূল্য বলেননি তিনি। 

হলফনামা অনুযায়ী, পাঁচ লাখ ৯৭ হাজার ২০০ টাকার ইলেকট্রনিক্স এবং সাত লাখ ৩৮ হাজার ৩০০ টাকার আসবারপত্র রয়েছে সারোয়ারের। আয়কর রিটার্নে মোট সম্পত্তির মূল্য দেখিয়েছেন ১১ কোটি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ৬০২ টাকা। 

একাদশ সংসদের হলফনামায় সম্পদ দেখিয়েছিলেন, নগদ ছিল তিন কোটি ৩১ লাখ ৬০ হাজার ৯৭৪ টাকা, ব্যাংক-বীমায় জমার পরিমাণ ছিল দুই কোটি ২৪ লাখ নয় হাজার ৯৮০ টাকা, বন্ড ৮৫ লাখ টাকার, সঞ্চয়পত্র পাঁচ লাখ টাকার, ৫০ লাখ টাকার একটি জিপ, ৫০ তোলা স্বর্ণ, পাঁচ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক্স, সাত লাখ ৩৮ হাজার ৩০০ টাকার আসবাবপত্র, এক লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১৪৮ টাকা মূল্যের তিন একর ২৬ শতাংশ কৃষি জমি, তিন কোটি ১৪ লাখ ১৮ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি ফ্ল্যাট ও একটি টিনের ঘর।

নবম সংসদ নির্বাচনের সময় হলফনামার সঙ্গে দেওয়া আয়কর বিবরণীতে সরোয়ার তিন কোটি ১৪ লাখ ১৮ হাজার অস্থাবর সম্পত্তি থাকার তথ্য দিয়েছিলেন। এর মধ্যে নগরীর কাউনিয়ায় ৫০ শতাংশ জমির উপর টিনের ঘর ও দালান রয়েছে। যার মূল্য বলেননি। নগরীর চাঁদমারীতে এক একর ২১ শতাংশ জমির মূল্য দেখিয়েছেন ৩০ লাখ টাকা। 

এ ছাড়া কাশিপুর বাঘিয়ায় এক একর ১৫ শতাংশ জমি মূল্য ১২ লাখ লাখ টাকা, বনানীতে পাঁচ কাঠা জমির মূল্য ৫০ লাখ টাকা, গুলশান-২ মডেল টাউনে ২৯৫.২৬ বর্গমিটার বিশিষ্ট আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৩১ লাখ ৬৫ হাজার, বনানীতে ২২৭.৩২ বর্গমিটার বিশিষ্ট ফ্ল্যাটের মূল্য ৫৮ লাখ টাকা, বনানীতে ইম্পেরিয়াল গ্লোরি প্রজেক্টের ২৪২.৫৭ বর্গমিটার বিশিষ্ট ফ্ল্যাটের মুল্য ৭৪ লাখ, বরিশাল নগরীর কাউনিয়ায় ১৮.৪৮ শতাংশ জমির মূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, একই এলাকায় ২৫.৭৫ শতাংশ জমির মূল্য চার লাখ টাকা, কাশিপুর চহুতপুর মৌজার ২৪ শতাংশ জমির মূল্য পাঁচ লাখ ২১ হাজার টাকা, পুরানপাড়া এলাকায় সাড়ে ১১ শতাশং জমির মূল্য ৫০ হাজার টাকা, কাউনিয়ায় ৯ শতাংশ জমির মূল্য ৫৪ হাজার টাকা, একই এলাকায় নিজ নামে কেনা দেড় শতাংশ জমির মূল্য আট হাজার টাকা, সাড়ে শতাংশ জমির মূল্য ৪৫ হাজার টাকা, সাড়ে চার শতাংশের মূল্য ৬০ হাজার, নগরীর রূপাতলীতে ৬.২৫ শতাংশ জমির মূল্য এক লাখ টাকা, সাভারে ১০ শতাংশ জমির মূল্য এক লাখ টাকা, নগরীর পুরানপাড়া এলাকায় ২২ শতাংশ জমির মূল্য ২৫ হাজার টাকা, কাউনিয়ায় টিন সেট ঘরসহ আট শতাংশ জমির মূল্য এক লাখ ৭০ হাজার টাকা, ঢাকার বনানী সুপার মার্কেটে দোকান ঘরের মূল্য ২১ লাখ টাকা, বনানী আবাসিক এলাকায় ছেলে নাফিজ ইয়াসিরের নামে করা পাঁচতলা ভবনের জন্য ২০ লাখ টাকা দাম দেখিয়েছেন। মিটসুবিশি পাজেরো, মিটসুবিশি ল্যান্সার ও টয়োটা ব্রান্ডের তিনটি গাড়ির মূল্য দেখিয়েছেন ৩২ লাখ ৮১ হাজার ৫১১ টাকা।

দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার কথা জানালেও কোন দেশের ও কবে নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন, সেটা উল্লেখ করেনি মজিবর রহমান সরোয়ার। তার বিরুদ্ধে আয়কর আইন, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন ধারার নয়টি মামলা বিচারাধীন। তিনি ১৪ মামলা থেকে অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন।