২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

‘শত কোটি’ টাকা আত্মসাতের দায়ে সাজা, কারাগার থেকে পালিয়ে গ্রেপ্তার

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় জেল পালানো আনিছুর রহমানকে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Sep 2026, 12:29 AM

Updated : 19 Sep 2026, 02:25 PM

কুষ্টিয়ায় সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাতের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত এবং পরে কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  

কুষ্টিয়া আদালত পুলিশের পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বলেন, জেল পলাতক আসামি মো. আনিছুর রহমানকে বুধবার রাতে ঢাকার হযরতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে আনিছকে আদালতে উপস্থাপন করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানান তিনি। 

আনিছুর রহমান কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের সদরপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০০৬ সালে উপজেলার আলাউদ্দিন নগর এলাকায় ‘বিশ্বাস সঞ্চয় ঋণদান ও সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি এনজিও চালু করেন তিনি। 

পরে কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, পাবনা ও ঝিনাইদহে শাখা খুলে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। ২০২৩ সালের নভেম্বরে এনজিওর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে আনিছ লাপাত্তা হয়ে যান।

প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আনিছুরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ১২৪টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ মামলায় তার বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়। সাজাপ্রাপ্ত আনিছুর কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে ছিলেন বলে কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন জানান। 

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ৭ অগাস্ট কুষ্টিয়া জেলা কারাগার ভেঙে অনেক আসামি পালিয়ে যায়। তার মধ্যে আনিছুর রহমানও ছিলেন। 

এদিকে আনিছের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকেই কুমারখালী থানায় ভিড় জমান শত শত ভুক্তভোগী।

সদর উপজেলার হরিপুরের মুদি দোকানি শাহজাহান সেখ বলেন, “আমার সারা জীবনের সঞ্চয় ও গরু বিক্রির সাড়ে সাত লাখ টাকা আনিছের এনজিওতে দিয়েছিলাম। টাকা হারিয়ে আমি আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারিনি। আমি আমার আসল টাকা ফেরত চাই।”

কুমারখালী উপজেলা হাসিমপুর গ্রামের সুফিয়া খাতুনের অভিযোগ, “চাকরির বেতন, বোনাস, জমি, গরু-ছাগল বিক্রি করে মোট প্রায় ২২ লাখ টাকা দিয়েছিলাম আনিছকে। সব আত্মসাৎ করে পালিয়েছে। আনিছ এভাবে শত শত কোটি টাকা মারি দেছে।”