Published : 29 Aug 2026, 09:41 PM
খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলায় ঘর থেকে এক ত্রিপুরা নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
শনিবার দুপুরে উপজেলার দুর্গম নরেন্দ্র কার্বারীপাড়া এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানান খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম।
নিহত নিকা ত্রিপুরা (৩০) ওই এলাকর বাসিন্দা। তার স্বামী সেতু ত্রিপুরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না।
নিকার আট বছর বয়সী মেয়ে শিখা ত্রিপুরা বলেন, শুক্রবার রাতে সে পাশের গ্রামে নানির বাড়িতে ছিল। শনিবার সকালে সেখান থেকে নিজেদের বাড়িতে ফিরে মাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পায়নি। ভয় পেয়ে সে স্কুলে চলে যায়। পরে স্কুলে গিয়ে জানতে পারে, তার মা মারা গেছেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, নিকাকে ধর্ষণের পর গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, নিকার ঘরে প্রায় চার ভরি সোনার অলঙ্কার ও সাত লাখ টাকা ছিল। তার মৃত্যুর পর এসব সোনা ও টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় কারবারি থৈঅংগো মারমা বলেন, কিছু দিন আগে স্থানীয় যুবক ও মোটরসাইকেল চালক খোকন ত্রিপুরার সঙ্গে নিকার সম্পর্ক নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে নিকা তার কাছে বিচারও দিয়েছিলেন। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও তাদের মধ্যে আবার যোগাযোগ ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
থৈঅংগো মারমার ভাষ্য, শনিবার সকালে নিকার লাশের পাশে একটি মোবাইল ফোন পড়ে থাকতে দেখা যায়। খোকন ত্রিপুরা মোবাইলটি নিয়ে যান বলে তিনি দাবি করেন। পরে ওই ফোনে থাকা কলের নম্বরগুলো মুছে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে মহালছড়ি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
স্বজনদের করা ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ, স্থানীয় ব্যক্তিদের করা সম্পর্কের বিরোধের দাবি এবং স্বর্ণ ও টাকা নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।