Published : 06 Jan 2025, 10:29 PM
যমুনা নদীর উপর নির্মিত ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার রেলসেতু তিন মিনিটে অতিক্রম করেছে পরীক্ষামূলক ট্রেন।
সোমবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে সেতুতে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচলের চূড়ান্ত পরীক্ষা হয়।
তখন সরকারি রেল পরিদর্শক, সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক, ব্যবস্থাপক ও দেশি-বিদেশি কর্মকর্তারা ছিলেন।
চূড়ান্ত পরীক্ষার অংশ হিসেবে সেতু দিয়ে ট্রেন চালিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টরা দ্রুততম সময়ে বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচলের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।
জাপান-বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে যমুনা নদীর উপর নির্মিত দেশের দীর্ঘতম রেলওয়ে সেতুর অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজ শেষে চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণমূলক ট্রেন চলাচল সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে রোববার পূর্ণগতিতে দেশের বৃহত্তর যমুনা রেল সেতুতে পরীক্ষামূলক ট্রেন আপ ও ডাউন লাইনে চলে।
প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে দেশের দীর্ঘতম রেলসেতুটি নির্মিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলেন, সোমবার দুপুরে পৌনে ২টার দিকে চারটি বগি ও একটি ইঞ্জিন নিয়ে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর অংশ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে সেতুতে ট্রেন চালানো হয়।
এ সময় ট্রেনের গতি এবং সেতুটির কম্পন পর্যবেক্ষণ করেন বাংলাদেশ রেলওয়ে গভর্মেন্ট ইন্সপেক্টর ফরিদ আহমেদ, প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মাসুদুর রহমান ও জাপানের প্রকল্প পরিচালক ম্যাকহ্যাভিসহ অন্য কর্মকর্তারা।
পরে তারা ট্রেন থেকে নেমে হেঁটে সেতুটি পর্যবেক্ষণ করেন।
এর আগে রোববার সকালে প্রথম পর্যায়ে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার গতিতে সেতুর দুপাশ থেকে দুটি ট্রেন পারাপারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট পরপর পর্যায়ক্রমে ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো হয়।
যমুনা রেলওয়ে সেতুর মুখ্য প্রকৌশলী মো. মাইনুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে পূর্ণগতিতে ট্রেন চলছে। সোমবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর অংশ থেকে ১২০ কিলোমিটার গতিতে পরীক্ষামূলক ট্রেনটি চালানো হয়। এতে দেখা গেছে, ১টা ৪৭ মিনিট ৫৯ সেকেন্ডে ট্রেনটি পশ্চিম পাড়ের সেতুর শেষ অংশ অতিক্রম করে।
এটিকে সর্বশেষ পরীক্ষামূলক ট্রেন দাবি করে তিনি বলেন, “এখন পুরো সেতু পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোথাও কোনো ত্রুটি আছে কি না। এরপর উদ্বোধনের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে সেতুটি।”
যমুনা রেল সেতুর প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, “যতগুলো প্যারামিটার দেখানো হয়েছে, সবগুলো সন্তোষজনক। এখন ‘নন- ইন্টারলক কালার লাইট সিস্টেম’র মাধ্যমে এই সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচলের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে।”
সরকারি রেল পরিদর্শক ফরিদ আহমেদ বলেন, পরীক্ষামূলক ট্রেন চলাচল পর্যবেক্ষণ করে তিনি সন্তুষ্ট। তারপরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে পরবর্তীতে ট্রেন চলাচলের জন্য উপযোগী হবে।
১৯৯৮ সালে যমুনা নদীর ওপর নির্মিত সেতু চালু হওয়ার পরই ঢাকার সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। তবে ২০০৮ সালে সেতুটিতে ফাঁটল দেখা দেওয়ায় ট্রেনের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩৮টি ট্রেন ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে সেতু পারাপার হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে ২০২০ সালের ৩ মার্চ যমুনা নদীর ওপর উজানে আলাদা রেল সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই বছর ২৯ নভেম্বর রেলসেতুরটির নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ২০২১ সালের মার্চে রেল সেতুর পিলার নির্মাণে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়।
প্রথমে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি ৭ লাখ টাকা নির্ধারিত হলেও পরে তা ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ দশমিক ৬০ শতাংশ অর্থায়ন এসেছে দেশীয় উৎস থেকে এবং ৭২ দশমিক ৪০ শতাংশ ঋণ দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি-জাইকা। দেশের বৃহত্তর এ রেল সেতুর নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছে জাপানি কোম্পানি ওটিজি ও আইএইচআই।
পুরোনো খবর