Published : 31 Jul 2026, 10:58 PM
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় মধ্যরাতে বসতঘরের জানালা ভেঙে এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার সকালে কিশোরীকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শামছুল আজম।
আটকদের মধ্যে একজনের নাম হেলাল মৃধা (২০)। অন্যজন কিশোর (১৬)।
ওই কিশোরীর চাচা বলেন, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া কিশোরীর (১৫) দাদির চোখের চিকিৎসার জন্য বাড়ির অন্যরা ফরিদপুরের একটি হাসপাতালে ছিলেন। বাড়িতে কিশোরীর ছোট বোন ও ছোট ভাই ছিল। রাত ১টার দিকে ৮ থেকে ১০ জনের একটি সশস্ত্র দল বাড়ি ঘিরে ফেলে।
এক পর্যায়ে তারা প্রথমে দরজা খোলার জন্য চাপ দেয়। তবে ভেতর থেকে দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ঘরের জানালা ভেঙে কিশোরীকে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সশস্ত্র দলটি হামলার হুমকি দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
“পরবর্তীতে আমার ভাতিজিকে মোটরসাইকেলে তুলে পাশের গ্রামের একটি পুকুরের পাড়ে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ৩টার দিকে তাকে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুইজনকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে এলাকাবাসী”, বলেন কিশোরীর চাচা।
তিনি বলেন, আটক দুজনকে পিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ছাড়া তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয় একটি মোটরসাইকেল।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, “শাশুড়ির অপারেশনের জন্য আমি হাসপাতালে ছিলাম। খবর পেয়ে বাড়ি এসে মেয়ের এ অবস্থা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামছুল আজম বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”
আটক দুইজন থানা হেফাজতে রয়েছে বলে জানান তিনি।