২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

বাবা-মাকে হারিয়ে একা হল ছোট্ট নাফিস

বিষয়টি আত্মহত্যা নাকি নাশকতা তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পুলিশ।

বাবা-মাকে হারিয়ে একা হল ছোট্ট নাফিস

পুলিশ জানায়, খাটের উপর স্ত্রীর এবং মেঝেতে স্বামীর লাশ পড়ে ছিল।

গাজীপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Dec 2022, 06:47 PM

Updated : 17 Dec 2022, 06:47 PM

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ির একটি বহুতল ভবনের নিচতলা থেকে উদ্ধার হয় অগ্নিদগ্ধ দম্পতির লাশ।

শনিবার ভোরে ওই দম্পতির লাশ উদ্ধার হওয়ার পর থেকে বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছে তাদের একমাত্র ছেলে নাফিস। 

১১ বছর বয়সী নাফিস স্থানীয় একটি মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র।

পুরনো খবর:

গাজীপুরে ঘরে দম্পতির দগ্ধ লাশ

সে শুক্রবার মাদ্রাসা থেকে বাসায় এসেছিল মা-বাবাকে দেখে যেতে। দুপুরে বাসায় খাবার খেয়ে বিকালে মাদ্রাসায় ফিরে যায় নাফিস।

শনিবার সকালে মাদ্রাসা থেকে বাসায় গিয়ে মা-বাবার পুড়ে যাওয়া লাশ দেখার পর থেকে নাফিসের কান্নায় পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।

এদিন ভোর ৬টার দিকে কোনাবাড়ি থানার সিকদারপাড়া এলাকার একটি বহুতল ভবনের নিচতলা থেকে নাফিসের বাবা আবু সুফিয়ান (৩৯) ও মা নাসরিন আক্তারের (৩৫) দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আবু সুফিয়ান একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। আর নাসরিন স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় অপারেটর পদে চাকরি করতেন।

নিহত দম্পতি সিকদারপাড়া এলাকার শুকুর শিকদারের ছয়তলা ভবনের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।

একমাত্র ছেলে নাফিস স্থানীয় একটি মাদ্ররাসার ছাত্রবাসে থেকে পড়াশোনা করে।

তাদের গ্রামের বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ভাঙ্গারহাট।

বিষয়টি আত্মহত্যা নাকি নাশকতা তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পুলিশ।

কান্না জড়িত কণ্ঠে নিহতদের একমাত্র ছেলে নাফিস জানায়, শুক্রবারও সে বাসায় আসে। দুপুরের খাবার খেয়ে আবার মাদ্রাসায় ফিরে যায়। তার মা-বাবার মধ্যে বড় কোনো পারিবারিক কলহ বা বিরোধ ছিল না।

আর কিছু বলতে না পেড়ে ছোট নাফিস কান্নায় ভেঙে পড়ে।

ওই বাড়ির নিরাপত্তা প্রহরী মো. আল-আমিন জানান, শনিবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে নিচ তলার কক্ষ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন তিনি। পরে অন্যদের সহায়তায় শাবল দিয়ে ঘরের স্টিলের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পানি দিয়ে আগুন নেভান। তখন বিছানায় স্ত্রী ও মেঝেতে স্বামীর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

নিহত নাসরিনের বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কিছুটা বিরোধ থাকলেও এমন বড় ঘটনা ঘটানোর মত ছিল না।  

এদিকে ঘটনাকে রহস্যজনক বলছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোনাবাড়ী থানার ওসি কেএম আশরাফ উদ্দিন।

তিনি বলেন, “ওই দম্পতি আগুনে পুড়ে মারা গেছেন, না মৃত্যুর পর আগুন লেগেছে, নাকি নাশকতা তা আমরা খতিয়ে দেখছি।”