১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘১০ হাজারের মত দিয়া দেন’, এসআইয়ের ভাইরাল অডিও নিয়ে যা জানা গেল

শরীয়তপুরের জাজিরা থানার এক এসআইয়ের কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Sep 2026, 10:42 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:56 AM

শরীয়তপুরের জাজিরা থানার এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকারিয়া রহমান।

অভিযোগ ওঠা এসআই রফিকুল ইসলাম জাজিরা থানায় কর্মরত। পারিবারিক নির্যাতনের একটি অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি অভিযোগকারী ইতি আক্তারের কাছে টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

প্রায় তিন বছর আগে জাজিরার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের ইতি আক্তারের সঙ্গে জাজিরা পৌরসভার সোনার দেউল এলাকার সাত্তার শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ তার।

সবশেষ ১৭ অগাস্ট রাতে মারধরের পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ইতি। পরে ৪ সেপ্টেম্বর স্বামীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জাজিরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। ওই অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই রফিকুল ইসলাম।

অভিযোগকারীর ভাষ্য, তদন্তের কথা বলে এসআই রফিকুল তার কাছে ১০ হাজার টাকা চান। পরে তার ভাই সৌদি প্রবাসী দুলাল মোড়লের সঙ্গে ওই পুলিশ কর্মকর্তার মোবাইল ফোনে কথা হয়।

সেই কথোপকথনের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ছড়িয়ে পড়া অডিওতে তদন্তের জন্য কত টাকা দিতে হবে, তা জানতে চাওয়া হয়। জবাবে এসআই রফিকুলকে বলতে শোনা যায়, “১০ এর মতো দিয়া দেন।” পরে টাকা পাঠানোর জন্য নিজের বিকাশ নম্বরও দেন বলে অডিওতে শোনা যায়।

ইতি আক্তার বলেন, টাকা না দেওয়ায় তদন্ত করা হচ্ছে না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে এসআই রফিকুল ইসলামের মুখোমুখি হলে তিনি টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি ওসি জানেন বলে আর কোনো বক্তব্য না দিয়ে নিজ কক্ষ থেকে চলে যান।

জাজিরা থানার ওসি সালেহ আহম্মেদও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দোহাই দিয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জাকারিয়া রহমান বলেন, ওই নারী তার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।