Published : 21 Aug 2026, 05:32 PM
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পরিবারের যাতায়াতের পথ, টয়লেট ও টিউবওয়েল বাঁশ ও টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে।
এতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ পরিবারের সদস্যরা ১৩ দিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
পরিবারটির অভিযোগ, জমি নিয়ে আদালতে মামলা করার পর প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়ির চারপাশে বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের কর্মকার পাড়ায়।
এ ঘটনায় দুপক্ষকে থানায় বসে বিরোধ মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তারা আসেননি বলে জানান হরিপুর ইউনিয়নের বিট অফিসার এসআই মনির ইসলাম।
মন্টু কর্মকারের বাড়িতে দরজার সামনে বাঁশ ও টিনের বেড়া দেওয়া হয়েছে। উঠান থেকে বের হওয়ার পথেও বাঁশের বেড়া রয়েছে। বাড়ির একমাত্র টয়লেটটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। টিউবওয়েলটিও টিন ও ময়লা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।
এসআই মনির ইসলাম বলেন, “মন্টুর লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে বাঁশ ও টিনের বেড়ার কিছু অংশ সরিয়ে দিয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, মন্টু কর্মকার ২০০৩ সালে তার চাচাতো ভাই উত্তম রায়ের কাছ থেকে সাবেক ১৮৯৭ দাগের ছয় দশমিক ৩৩ শতাংশ জমি মৌখিকভাবে কেনেন। পরে ২০১৪ সালে ওই জমির সাফ-কবলা দলিল করা হয়।
তবে ২০১৭ সালে একই জমি উত্তম রায় প্রতিবেশী রফিক মিয়ার কাছে বিক্রি করেন। বিষয়টি জানতে পেরে মন্টু আদালতে মামলা করেন।
মন্টুর স্ত্রী সুবর্ণা কর্মকার বলেন, ৯ আগস্ট দিনের বেলায় তাদের ঘরে তালা লাগিয়ে বাইরে বের করে দেওয়া হয়। পরে পুলিশের সহায়তায় তারা ঘরে ফিরতে পারলেও বাঁশ ও টিনের বেড়া সরানো হয়নি। টয়লেট ব্যবহার করতে না পারায় রাতে পাশের পুকুরপাড়ে যেতে হয়। খাবার পানির জন্য প্রতিবেশীদের বাড়িতে যেতে হচ্ছে।
মন্টু কর্মকার অভিযোগ করে বলেন, রফিক মিয়ার লোকজন তাদের বাড়িতে এসে হামলা করে এবং বাঁশ ও টিন দিয়ে বেড়া দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। জমি নিয়ে মামলা করলে তাকে হত্যার পর লাশ গুমের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রফিক মিয়ার স্ত্রী জাহানারা বেগম। তিনি বলেন, তারা নিজেদের জায়গায় বেড়া দিয়েছেন, মন্টুর জায়গায় নয়। মন্টুর বাড়িতে হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
জমির আগের মালিক উত্তম রায়ও মন্টুর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, মন্টু জালিয়াতি করে তার কাছ থেকে দলিলে স্বাক্ষর নিয়েছিলেন। তাই তিনি জমিটি রফিকের কাছে বিক্রি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা তাউস মিয়া বলেন, জমিটি প্রথমে মন্টু কিনেছিলেন। পরে একই জমি উত্তম রায় রফিকের কাছে বিক্রি করেন।
সালিশকারক সুজন পাঠান বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ হলেও দুই পক্ষের কেউ ছাড় না দেওয়ায় বিরোধের সমাধান হয়নি।
হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক মিয়া বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তবে কোনো পক্ষই তার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা নাছরিন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।