Published : 06 Nov 2024, 09:30 PM
শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ বন্ধ করে নতুন ভবন নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা।
বুধবার দুপুরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের লোকজন বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন শুরু করে।
এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ না চাইলে মাঠে কোনো ভবন নির্মাণ করা হবে না বলে জানিয়েছেন শেরপুর জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা জয়িতা আধিকারী।
এদিকে খেলার মাঠে ভবন নির্মাণ করতে নিষেধ করায় জেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মামলার হুমকি দিয়েছেন বলে ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাঠে নতুন ভবন নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়ে অনেক আগে জেলা প্রশাসক ও শিক্ষা অফিসারকে দরখাস্ত দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সময় আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকর্তারা তাদের কথা শোনেননি।
বুধবার সকালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ভবন নির্মাণের কাজ শুরুর জন্য পরিদর্শনে আসেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা মাঠ কোনো ভবন নির্মাণ করতে দেবে না জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ ছাড়া তারা কর্মকর্তাদের ফ্যাসিবাদের দোসর বলে স্লোগান দেয়।
তবে শিক্ষার্থীদের দাবি, বিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত দুটি ভবন আছে, সেখানে নতুন ভবন নির্মাণ করা যেতে পারে। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষকে বারবার বলেছে তারা। কিন্তু তারা শুনছেন না।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের লোকজন ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের যোগসাজশে খেলার মাঠে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
আন্দোলনের খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে যান শেরপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুর রহমান তরফদার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হযরত আলী, শেরপুর মডেল গার্লস কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ পলাশ, শেরপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী সভাপতি রফিক মজিদ এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান বাদলসহ স্থানীয় নেতারা।
পরে তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আনিসা বেগম বেলী বলেন, মাঠে ভবন নির্মাণ করা হলে বাচ্চাদের চলাচল ও খেলাধুলা বাধাগ্রস্ত হবে। সেইসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে মাঠ।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জয়িতা আধিকারী বলেন, “আমি ফ্যাসিবাদের দোসর নই, বাচ্চারা হয়ত ব্যাপারটি বুঝতে পারেনি। আর মামলার হুমকির বিষয়টি আমি জানি না।
“যদি স্কুল কর্তৃপক্ষ না চায়, তাহলে আমরা জোর করে ভবন নির্মাণ করব না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অবহিত করব।”
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সহমত প্রকাশ করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হযরত আলী বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে ভবন নির্মাণ করা ঠিক হবে না। কারণ মাঠে ভবন নির্মাণ করা হলে, শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করবে কোথায়? নতুন ভবনটি পরিত্যক্ত ভবনের জায়গায় নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান।