রাবিতে শিক্ষার্থীকে সাপের কামড়, প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা হলে ঘুমন্ত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে সাপে কামড় দেওয়ার ঘটনায় প্রশাসন ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার দুপুরে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। এর আগে শিক্ষার্থীরা হল প্রাধ্যক্ষের কক্ষ ও হল কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে পদত্যাগ দাবি করেন।
এছাড়াও বিক্ষোভ থেকে হলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রুত স্নেক নেট স্থাপন, হলের চারপাশের ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার এবং সাপের উপদ্রব ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
হল সংসদের ভিপি আশিকুর রহমান সোহাগ বলেন, “হলের ড্রেনেজ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় পানি জমে থাকে এবং ড্রেন দিয়ে সাপ হলে প্রবেশ করে। এ ছাড়া হলের চারপাশের জঙ্গল পরিষ্কার করতে পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকট রয়েছে।”
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য স্নেক নেট স্থাপনের দাবি জানানো হলেও নিম্নমানের নেট দেওয়ায় তা বারবার পরিবর্তন করতে হয়েছে। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান না করায় প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।”
এ সময় আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়ে সেখানে উপস্থিত হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও এজিএস সালমান সাব্বিরসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা।
ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “রুমের ভেতরে যদি শিক্ষার্থীরা নিরাপদে থাকতে না পারে, তাহলে আমাদের একটাই প্রশ্ন হল প্রশাসন সেখানে কী করে। আমরা শিক্ষার্থীদের সব দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানাচ্ছি।”
এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে রোববার ভোরে শহীদ শামসুজ্জোহা হলে নিচতলার একটি কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় নুরনবী ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থীকে কালাচ সাপে কামড় দেয় বলে হল প্রাধ্যক্ষ আরিফুল ইসলাম জানান।
নুরনবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
প্রাধ্যক্ষ বলেন, “সাপের কামড়ে আহত হওয়ার পর তাকে প্রথমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
“সেখানে তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।”
