২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

লালমনিরহাটে লাঙ্গলের দুর্গে নৌকার ধাক্কা

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাও যে নির্ভার তা নয়; উত্তরের এ জেলার তিন আসনেই দলের স্বতন্ত্রদের চ্যালেঞ্জে পড়েছেন, মন্ত্রীও পড়েছেন ভাইয়ের বিরোধিতার মুখে।

ফরহাদ আলম সুমন

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Jan 2024, 12:17 PM

Updated : 15 Jan 2024, 01:35 PM

উত্তরের জেলা লালমনিরহাটে জাতীয় পার্টির দুর্গ প্রায় অটুটই ছিল অনেকগুলো বছর। তবে সময়ের পালাবদলে লাঙ্গলের সেই শক্ত অবস্থানে বড় ফাটল ধরেছে। নৌকার দাপটে এবারের নির্বাচনে যদিও মাটি আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন জাপার প্রার্থীরা; তবে ভোটের মাঠের চিত্র দেখে শেষ পর্যন্ত স্বৈরশাসক এরশাদের প্রতিষ্ঠিত দলটি কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে সন্দিহান স্থানীয়দের অনেকেই। 

নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচার হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর ক্ষমতার হাতবদলের পরের এক দশকেও জাতীয় পার্টি সেখানে শক্তিশালী অবস্থানে থেকেই নির্বাচনে লড়েছে। অবস্থা বদলাতে শুরু করে পরের ১০ বছরে; এ সময়ে নৌকার সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় দলটি নিজেদের টিকিয়ে রেখেছিল। তবে সবশেষ এক দশকে রংপুর বিভাগের এ জেলায় লাঙ্গল মাটি হারাতে হারাতে এখন ক্ষীণধারায় পরিণত হতে চলেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত। 

এখানকার তিনটি আসনের মধ্যে একমাত্র লালমনিরহাট-৩ সদর আসন থেকে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে একাদশ সংসদের নির্বাচনে ২০১৮ সালে জয় পেয়েছেন। সমঝোতার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল। 

এ ছাড়া গত দুটি নির্বাচনে এ জেলায় জাতীয় পার্টির কেউ তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করতে পারেননি। এবারের পরিস্থিতিও সে রকমই আভাস দিচ্ছে, এক খণ্ড মাটিও আর লাঙ্গলের জন্য অবশিষ্ট থাকবে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দলের নেতাকর্মীদের অনেকেই। প্রতিপক্ষরা বলছেন, এবার আর কোনো সুযোগই নেই। 

লাঙ্গলে চিড় ধরার বিপরীতে নৌকার এ জয়গানও যে এবার নিরঙ্কুশ তা নয়; ভোটের মাঠের চিত্র বলছে নিজের দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির প্রার্থীরা। এমনকি একজন মন্ত্রী তার আপন ভাইয়ের বিরোধীতার মুখে পড়েছেন।  

‘দুর্গেই এখন দুর্গতি’, কর্মীরা এদিক-সেদিক

জাতীয় পার্টির এক সময়ের কর্মী, আদিতমারী উপজেলা সদরের লুৎফর রহমান মুকুল বলছিলেন, “আসন তিনটি এক সময় জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। দুর্গের ক্যাপ্টেন ছিলেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ। 

“এরশাদও প্রয়াত হলেন, জাপার দুর্গও ভেঙে খান খান হয়ে গেল।” 

লুৎফর এখন আর জাতীয় পার্টির সঙ্গে নেই। শুধু তিনিই নন, অনেক কর্মীই এখন হতাশ হয়ে এদিকে-সেদিক ছুটে বেড়াচ্ছেন। লুৎফর বলছিলেন, জাতীয় পার্টির ‘দুর্গেই এখন দুর্গতি’।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনটি আসনে মনোনয়ন দিলেও লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন দলটির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী। আসনটিতে জাতীয় পার্টির আর কেউ নেই। 

ধারণা করা হচ্ছে, এখন আসনটিতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া আওয়ামী লীগের এক নেতার মধ্যে। 

আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন সাবেক গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন। তার সঙ্গে ঈগল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন দলের অর্থ উপ-কমিটির সদস্য রূপালী ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতাউর রহমান প্রধান। 

দুই প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ভাগ হয়ে যাওয়ায় শক্তির বিচারে কেউ কম নন।

পাটগ্রামের চৌরাঙ্গী মোড়ের কাপড় ব্যবসায়ী আজাদুর রহমান বলেন, “দীর্ঘ দিন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোতাহার হোসেনকে এমপি বানিয়ে আসছেন পাটগ্রামের মানুষ। কিন্তু তিনি বরাবরই পাটগ্রামকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেছেন।

“কিন্তু এবারে আমাদের বাড়ির আতাউর সাহেব ঈগল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্বের অধিকারী আতাউর প্রধানকে বেছে নেবে দুই উপজেলার মানুষ।” 

আতাউর প্রধানের দাবি, “ভোটাররা পরিবর্তন চায়। ইনশাআল্লাহ্ এই আসনের ভোটাররা এবার তাদের পছন্দের প্রতীক ঈগল মার্কাকে বেছে নেবেন।”

আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোতাহার হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন থেকে এই আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে এলাকার উন্নয়ন করেছি। সে কারণে আমি মনে করি, এবারও নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে ভুল করবেন না ভোটাররা।” 

এ আসনে প্রার্থী হিসেবে আরও আছেন- কে এম আমজাদ হোসেন তাজু (স্বতন্ত্র), আজম আজহার হোসেন (বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্ট), হাবিব মো. ফারুক (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ)।

এক নজরে

পাটগ্রাম হাতিবান্ধা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৬ হাজার ১২২ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬৪ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৭। হিজড়া ভোটার একটি।

গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে টানা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এখানে জাতীয় পার্টির নেতা জয়নুল আবেদিন সরকার দুবার সংসদ সদস্য হন।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে।  

সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর ভাই স্বতন্ত্রের পক্ষে

লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি দীর্ঘদিন দিন জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথম হাত ছাড়া হয়ে আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়।

আসনটিতে এবার জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিলেও ভোটের মাঠে তাকে নিয়ে উল্লেখ করার মতো আলোচনা নেই ভোটারদের মাঝে।

এ আসনেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী এবং দলটির সঙ্গে জড়িত স্বতন্ত্র প্রার্থী।

এখানে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে ভোটে আছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিরাজুল হক।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর আপন ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও  কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুজ্জামান আহমেদ অবস্থান নিয়েছেন ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ‘পারিবারিক দ্বন্দ্বের’ জেরে তিনি সমর্থন দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুলকে। 

কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা উত্তর বাংলা কলেজ মিলনায়তনে সিরাজুলের এক নির্বাচনি সভায় হাজির হয়ে মাহবুবুজ্জামান নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। এ সময় সেখানে আদিতমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস, উপজেলার ভাদাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষ্ণকান্ত রায় বিদুর, কমলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহমুদ ওমর চিশতি ও সারপুকুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ভোটারদের একটা অংশ মনে করছেন, দুই ভাইয়ের পরস্পরবিরোধী অবস্থান নৌকার ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে। 

আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ি ইউনিয়নের চন্ডিমারী বাজারের মুদি ব্যবসায়ী হাসান আলী বলেন, “নুরুজ্জামান আহম্মেদ মন্ত্রী হওয়ার পরও আদিতমারীর উন্নয়নে কোনো কাজ করেননি। সবকিছু করেছেন নিজের ও তার পরিবারের জন্য। যে কারণে আমরা এবার সিরাজুল ভাইয়ের ঈগল পাখির পক্ষে আছি।”

আদিতমারী বাজার এলাকার এমদাদুল হক নামে এক ভোটার বলেন, “সুখে-দুঃখে এলাকার মানুষের পাশে থেকে এই আসনের ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। তাই আমরা তার পক্ষেই আছি।”

ঈগল প্রতীকের প্রার্থী সিরাজুল হক বলেন, “মানুষ পরিবর্তন চায়। দীর্ঘ দিন থেকে এলাকার মানুষ উন্নয়ন-বঞ্চিত ছিল। উন্নয়নের স্বার্থেই এলাকার মানুষ আজ এক জোট হয়েছে। আশা করি, ৭ তারিখে বিপুল ভোটে ঈগল মার্কা জয়লাভ করবে।”

নৌকার প্রার্থী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, “২০১৪ সাল থেকে এই আসনের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে জননেত্রেী শেখ হাসিনার নির্দেশে দিন-রাত আদিতমারী-কালীগঞ্জ উপজেলার জন্য কাজ করে আসছি। এমন কোনো জায়গা নেই, যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। আরও কিছু অসমাপ্ত কাজ আছে সেগুলো পরিপূর্ণভাবে শেষ করতে আবারও জনসাধারণ নৌকাকেই বেছে নেবেন।”

এ ছাড়া এখন থেকে দেলোয়ার হোসেন (জাতীয় পার্টি), দেলাব্বর হোসেন (বাংলাদেশ কংগ্রেস), মমতাজ আলী (স্বতন্ত্র), মো. রজব আলী (জাকের পার্টি), মো. শরিফুল ইসলাম (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি) প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।

এক নজরে

কালিগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১ হাজার ৭০৭ এবং নারী ২ লাখ ৩২৭ জন।

২০১৪ ও ২০১৮ সালে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকেটে সংসদ সদস্য হন সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ।

১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে টানা চারবার জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য হন প্রয়াত মজিবর রহমান।

আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বাইরে এখানে বিএনপিরও দৃশ্যমান ভোট রয়েছে।

শেষ রক্ষা হবে?

বলতে গেলে, সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-৩ আসনটি কোনো রকমে ধরে রেখেছিল জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের কারণে বারবারই আসনটি লাঙ্গলেরই থেকে যায়।

বর্তমানে এ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি এ আসন থেকে তিনবারের সংসদ সদস্য। আওয়ামী লীগের ওপর ভর করেই তিনি প্রতিবার নির্বাচনের বৈতরণি পার করেন বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা। তবে এখন আর আগের অবস্থা নেই। এবার আসনটি থেকে তিনি নির্বাচনও করছেন না।

এ আসনে এবার জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়েছেন জাহিদ হাসান। রাজনীতিতে অনেকটাই নবীন এ প্রার্থী ভোটের মাঠে এখনও তেমন সাড়া ফেলতে পারেননি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

যদিও জাহিদ বলছেন, জাতীয় পার্টি কয়েক বছর ধরেই আগলে রেখেছিল আসনটি। সাধারণ ভোটারদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিল। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং পার্টির চেয়ারম্যানের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে আবারও জাতীয় পার্টিকেই বেছে নেবে জনগণ।

তবে এবার জাতীয় পার্টিকে ছাড় না দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের দাবির মুখে আওয়ামী লীগ নৌকা মার্কার প্রার্থী দিয়েছে।

দলটি থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান।     

ভোটের মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি ও তার সমর্থকরা। প্রতিদিন শহর ও গ্রামগঞ্জে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও কর্মী-সমাবেশ করছেন তারা। 

এক নজরে

: এই আসনের মোট ভোটার ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৪। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৩ হাজার ২১২ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৬১। হিজড়া ভোটার একজন।

:  জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এই আসন থেকে ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

: ১৯৯১ সালেও আসনটি জাতীয় পার্টির ছিল। সেবার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন রিয়াজ উদ্দিন আহমদ।

: ২০০১ সালে এখানে সংসদ সদস্য হিসেবে জয় পান বিএনপির আসাদুল হাবিব দুলু।

: ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবু সালেহ মোহাম্মদ সাঈদ এখানে সংসদ সদস্য হন।    

মতিয়ার বলেন, “গত ৫০ বছরে লালমনিরহাট সদরের অলিতে গলিতে ঘুরেছি। প্রত্যেকটি পাড়া-মহল্লার লোকজনের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক।

“তারা দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকায় ভোট দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার সেই সুযোগ পেয়েছেন ভোটাররা। ভোটাররা এবার ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের প্রার্থী নির্বাচিত করবেন।”

আসনটিতে স্বতন্ত্র হিসেবে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাবেদ হোসেন বক্কর ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

সঙ্গে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের তেমন দেখা না গেলেও ভোটের মাঠে তার অবস্থানও বেশ জোরালো।

সাধারণ ভোটারদের ধারণা, এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই হবে ঈগলের প্রার্থীর।

জাবেদ বলেন, “সদর আসনের জনগণের ওপর আমার সম্পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। সেটির প্রমাণ হিসেবে বিগত উপজেলা নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। তাই আমার বিশ্বাস এখানের ভোটাররা কোনোভাবেই ভুল করবেন না।” 

এ আসনে সাত প্রার্থীর বাকি চারজন হলেন- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের আশরাফুল আলম, তৃণমূল বিএনপির মো. শামীম আহম্মেদ চৌধুরী ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শ্রী হরিশ চন্দ্র রায়।