সৌদিতে আগুনে নিহত: বাড়ি ফিরলেন বাগমারার শ্যামল, তবে কফিনে
৯ আগস্ট রাতে সৌদি আরবে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা যান বাগমারার শ্যামল উদ্দীন মাঝিসহ ১৬ বাংলাদেশি।
সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্যামল উদ্দীন মাঝির তিন মেয়ে। মেঝ মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য এবার দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। ফিরেছেনও, তবে কফিনবন্দী হয়ে।
শুক্রবার রাত ৩টার দিকে তার মরদেহ রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়।
এ সময় স্ত্রী, তিন মেয়ে, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রতিবেশী রাহাত আলী বলেন, “দীর্ঘ আট বছর পর শ্যামলের দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তার মেয়ের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। তবে জীবিত মানুষ হিসেবে নয়, নিথর মরদেহ হয়ে ফিরেছেন তিনি।”
৪৬ বছর বয়সি শ্যামল উদ্দিন মাঝি সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় আট বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। কাজ করতেন সেদেশের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায়। গত ৯ আগস্ট রাতে ওই কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আরও ১৫ বাংলাদেশির শ্রমিকের সঙ্গে পুড়ে মারা যান তিনি।
পরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার তার মরদেহ বাংলাদেশে আসে। পরে সেটি নেওয়া হয় বাগমারার বাড়িতে।
সেখানে শনিবার বেলা ১১টার দিকে শ্যামল উদ্দিন মাঝির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের পরিবেশ। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
এ সময় স্থানীয়রা তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকার, জনপ্রতিনিধি, বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, “শ্যামল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার কোনো ছেলে সন্তান নেই, তিনটি মেয়ে রয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
“তাই পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।“
আরও পড়ুন:
